সোমবার সকালে ঢাকায় এসে বিকাল পাঁচটার জাতীয় দলের অনুশীলনে উপস্থিত হামজা চৌধুরী। চোখে-মুখে ক্লান্তির কোনও ছাপ নেই, ফুরফুরে ! আগের মতোই হাসিখুশি দেখা গেলো লেস্টার সিটির এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে।
ভ্রমণ-ক্লান্তি বিবেচনায় নিয়েই জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার হামজাকে অনুশীলনে নামানোর ক্ষেত্রে একটু দোটানা ছিল কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। তবে দলের সূত্রের খবর, হামজা নাকি নিজেই চেয়েছেন সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করতে। হাতে সময় কম। দলের সঙ্গে গুছিয়ে নিতে তাই বিকালেই মাঠে নেমে পড়া। এশিয়ান কাপের তৃতীয় রাউন্ডের বাছাইয়ে হংকং চায়নার বিপক্ষে ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার।
‘সি’ গ্রুপের টেবিলে ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য ঘরের মাঠের আসন্ন ম্যাচটি হয়ে উঠেছে ‘ডু অর ডাই ম্যাচ’। এই ম্যাচে হারলে বাছাই পর্ব পেরুনোর স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাবে অনেকটাই।
হামজা হয়তো তা বুঝেই টিম হোটেলে উঠে ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের পাশে নিয়ে জয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘নিরাপদে এসে পড়েছি। ইনশাহআল্লাহ আমরা সফল হবো। ৯ তারিখে আমরা হংকংয়ের বিপক্ষে জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলবো। সবাই আমাদের সমর্থন দিবেন।'
এদিকে, সাংবাদিকদের জন্য আজ বরাবরের মতো ১৫ মিনিট বরাদ্দ রেখেছিলেন কাবরেরা। প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেনি কেউ। তবে হামজা যেন দলের সাথে একাত্ম হয়ে উঠেছেন। মাঠের এক কোণে কাজী তারিক রায়হান, জামাল ভূঁইয়া, ফাহামিদুল ইসলামের সাথে জাগলিং করছিলেন হামজা। পাসিং অনুশীলনে কেউ বল হারালে তার পিঠে অলতো করে ‘চড়’ দেওয়ার রেওয়াজ এদিনও ছিল। ফাহামিদুল মিস করলেন, জামাল-হামজাসহ বাকিদের দেখা গেলো হাসতে হাসতে ‘জুনিয়র’-এর পিঠে-মাথায় আলতো করে ‘চড়’ দিতে। এক-দুবার জামাল, তারিকের মতো তিনিও তা খেলেন হাসিমুখে! চোটের হানায় এরই মধ্যে দলছাড়া হয়েছেন ফরোয়ার্ড সুমন রেজা ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তারিক ও আল আমিনের প্রস্তুতি নিয়ে কোচের দুঃশ্চিন্তা কিছুটা দূর হয়েছে। তপু বর্মণ মাঠের চারপাশে চক্কর দিয়েছেন এক টিম স্টাফের সঙ্গে।
দলে নতুন মুখ জায়ান আহমেদকেও দেখা গেলো বেশ উৎফুল্ল। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই তরুণ ডিফেন্ডার কিছু নিখুঁত ক্রস ও আড়াআড়ি পাস বাড়িয়ে নজর কাড়লেন। ইতালি প্রবাসী ফরোয়ার্ড ফাহামিদুল ইসলামকে দেখা গেল খুনসুটি করতে। সব মিলিয়ে প্রস্তুতিটা ভালোই হচ্ছে সবার।