মায়ের মৃত্যুর ৩৬ বছর পর স্বাচিপ নেতা বাবার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুললেন দুই চিকিৎসক মেয়ে

মায়ের মৃত্যুর ৩৬ বছর পর স্বাচিপ নেতা বাবার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুললেন দুই চিকিৎসক মেয়ে

খুলনা: এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান ডা. শেখ বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যা ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের প্রতিবাদে তার ২ মেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা হলেন শেখ তামান্না আলম ও ডা. তাসনুভা আলম।

ডা. শেখ বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠনের অভিযোগ এনেছেন তারা। শেখবাড়ির সাথে সুসম্পর্ক থাকায় নিজ বাড়িতে ও খুলনা বিএমএ’তে বসে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। একই সাথে বাবার নানা অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় যে কোন সময় তারা দুই বোন খুন বা অপহরণের শিকার হতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ তুলে ধরে ডা. শেখ বাহারের মেয়ে শেখ তামান্না আলম ও ডা. তাসনুভা আলম। লিখিত বক্তব্যে তামান্না আলম ৩৬ বছর আগে তার মায়ের হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য বাবাকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়েরের কথা জানান। বাবার নানা অনৈতিক কাজের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব কারণে খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন আদালতে ডা. বাহারের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া দুই বোন জীবনের নিরাপত্তার জন্য সোনাডাঙ্গা থানায় জিডিও করেছেন।

শেখ তামান্না আলম বলেন, পিতার পরকীয়া প্রেম, অন্য নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ও নির্মম অত্যাচারে ১৯৮৯ সালের ১৩ নভেম্বর তার মায়ের মৃত্যু হয়। এরপরও বিভিন্ন নারীর সাথে তার সম্পর্ক ছিল। তাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালসের বেতন ভুক্ত কর্মচারী হেনা রানী ভৌমিকের সাথে ডা. বাহারের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের ঘরে ১৮ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। হেনা রানী ভৌমিক বিবাহিত, তার স্বামী চিত্ত রঞ্জন সেন জেনেশুনে তার স্ত্রীকে ডা. বাহারের কাছে থাকতে দিচ্ছেন। বিনিময়ে ডা. বাহারের বিএমএ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের পদ পদবী ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকাকালে নিয়োগ বদলী বাণিজ্য করেছেন। সম্প্রতি হেনা রানীকে এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালসের ১০ হাজার শেয়ার লিখে দিয়েছেন। চিত্ত রঞ্জন সেন ব্যক্তিগত গাড়ি কিনে রেজিস্ট্রেশনের সময় ডা. বাহারের বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। এক সময়ের সামান্য বেতনের কর্মচারী হেনা রানী এখন বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক। অথচ অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ৫০ বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠান এপিসি ফার্মা এখন বন্ধের পথে।

তামান্না আলমের অভিযোগ, মূলত ডা. বাহারকে ব্যবহার করে তার সমুদয় অর্থ সম্পত্তি গ্রাস করতে চায় হেনা রানী ও চিত্ত রঞ্জন। আর বাঁধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে তাদের দুই বোনকে হত্যার চক্রান্ত করা হচ্ছে।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওষুধ কোম্পানীতে বিনিয়োগের নামে স্মার্ট অ্যাগ্রো বিডি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা গ্রহণের পর তা আত্মসাতের চেষ্টা, পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে ডা. বাহারের বোনদের বঞ্চিত করা, বড় মেয়ের স্বাক্ষর জাল করে ঢাকার ফ্ল্যাট ৭০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়া, ছোট মেয়ের স্বাক্ষর জাল করে পূবালী ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা লোন উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়। এসব ঘটনায় স্মার্ট অ্যাগ্রো বিডির মালিক মিসেস লুবনা জাহান, তারা দুই বোন ও তাদের ফুপুরা পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ডা. বাহারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানানো হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুই বোন বলেন, ডা. বাহার জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিএমএ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও খুলনা শাখার সভাপতি। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাবেক সভাপতি। খুলনা বিএমএ ভবন ও তাদের সোনডাঙ্গাস্থ বাসভবনে দিনের বেশির ভাগ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করেন। সারা দিন ডা. বাহার তাদেরকে নিয়ে মিটিং করেন রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গঠনের লক্ষ্যে।

মেয়েদের অভিযোগ বিষয়ে ডা. শেখ বাহারুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, ওদের দিয়ে পর্দার আড়ালে থেকে এসব করানো হচ্ছে। আমাকে যদি কোনভাবে কাবু করতে পারে বা সায়েস্দা করতে পারে এপিসি ফার্মাসিউটিক্যালসকে সস্তায় কিনতে পারবে বলে এসব করানো হচ্ছে। ৩৬ বছর পর কেন এ অভিযোগ করা হচ্ছে। সম্প্রতি শেখ তামান্না আলমকে কোম্পানির নিয়ম বিরোধী কাজ করায় ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ থেকে সরানো হয়েছে। যেকারণে সে ক্ষীপ্ত হয়ে এসব অভিযোগ করেছে।

 

 

এমআরএম

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin