‘মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি’, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতু পার হওয়ার অভিজ্ঞতা

‘মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি’, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতু পার হওয়ার অভিজ্ঞতা

দক্ষিণ চীনের গুইঝৌ প্রদেশের হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে মনে হয়, আকাশটা হাতের নাগালেই। ‘সেতুর দৃশ্যটা সত্যিই অবিশ্বাস্য,’ বললেন বাঞ্জি জাম্প ও রোপ সুইং নিরাপত্তাকর্মী ফু। তিনি বললেন, ‘নিচে বেইপান নদী বয়ে চলেছে, পাশে হুয়াজিয়াং গ্রাম, আর দূরে দেখা যায় জলপ্রপাত। এত উঁচু থেকে নিচের দিকে তাকানোই এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।’

২৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এই সেতুটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতু। ভূমি থেকে এর ডেকের উচ্চতা ৬২৫ মিটার, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর মূল অংশ ১ হাজার ৪২০ মিটার। যা পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু হিসেবেও রেকর্ড গড়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

দুই ঘণ্টার পথ এখন দুই মিনিটে

সেতুটি গুইঝৌ প্রদেশের লিউঝি বিশেষ জেলা থেকে আনলং কাউন্টিকে সংযুক্ত করেছে। আগে এই দুই প্রান্তের মধ্যে যাত্রা সময় ছিল প্রায় দুই ঘণ্টা, এখন মাত্র দুই মিনিট। কিন্তু এই প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু যাতায়াত সহজ করা নয়, সেতুটিকে ঘিরে গড়ে তোলা হচ্ছে এক নতুন পর্যটন আকর্ষণ।

সেতুর দু’পাশে দর্শন প্ল্যাটফর্ম, কাচের লিফটে করে উঠে যাওয়া যায় সেতুর খিলানের ওপরের ক্যাফেতে, আর সাহসীদের জন্য রয়েছে কাচের হাঁটার পথ, যেখান থেকে ৫৮০ মিটার নিচে মাটির দিকে তাকানো যায়। বাঞ্জি জাম্প, স্ল্যাক-লাইনিং এবং পেশাদার বেস জাম্পিং প্রতিযোগিতারও পরিকল্পনা রয়েছে।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e71b9a79125" ) );

দর্শনার্থীদের ভিড়

সব আকর্ষণ এখনও চালু না হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভিড় ইতোমধ্যে বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ হাজার দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় অতিথিশালা মালিক লিন গুয়োচুয়ান জানান, তার গেস্টহাউজে এখন কোনও রুম খালি নেই।

তিনি বলেন, আমি নিজেই সেতুটা চারবার পার হয়েছি। পুরো নির্মাণকালেই ২০০ বারের বেশি গিয়েছি শুধু কাজের অগ্রগতি দেখতে। এখন আমার উঠোন থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু সেতু দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেতুর বিভিন্ন ভিডিও। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, গাড়িতে বসে মনে হচ্ছিলো, হাত বাড়ালেই মেঘ ছোঁয়া যাবে। আরেক জন মন্তব্য করেছেন, সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলতে দেখলে নিচে থাকা মানুষদের পিঁপড়ের মতো ছোট মনে হয়।

তবে সবাই এতটা মুগ্ধ নয়। কেউ কেউ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ও পার্কিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তুষ্ট। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, বিশেষভাবে যাওয়ার মতো কিছু নয়।

উন্নয়ন ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত

মাত্র চার বছরের মধ্যেই এই প্রকল্প শেষ করেছে চীন। এর আগে গুইঝৌ প্রদেশেরই আরেকটি সেতু ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ। ভূমি থেকে সেতুর ডেক পর্যন্ত উচ্চতার ভিত্তিতে হুয়াজিয়াং গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ব্রিজ এখন সেই জায়গা নিয়েছে।

সেতুর দুটি টাওয়ারের উচ্চতা ২৬২ মিটার করে, যা বিশ্বের ১৯তম উঁচু ব্রিজ টাওয়ার হিসেবে বিবেচিত। তবে প্রকৌশল কৌশলের বাইরেও এই সেতু আজ চীনের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। দেশের পাহাড়ি অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোকে যুক্ত করছে এটি, খুলে দিচ্ছে উন্নয়ন ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত।

আর যারা সেখানে যান, তাদের অনেকের অনুভূতি ফুর মতোই, ‘সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে মনে হয়, আমি যেন সত্যিই মেঘ ছুঁয়ে ফেলেছি।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin