দেখবেন, অযথাই মেয়েটা কেমন যেন আনমনা, শুধু শুধু মেয়েটা মেজাজ খারাপ করলো কিংবা সকালেই ভালো ছিল সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে এসে দেখেন গাল ফুলিয়ে আছে। কী যে হলো বুঝতে পারছেন না। এই যে বললাম, ‘অযথা’, ‘শুধু শুধু’- সেটা কিন্তু ঠিক শব্দের ব্যবহার হলো না।
মেয়েদের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল, সদ্য মা হওয়ার আগে ও পরে এবং মেনোপজের সময়— এই তিনটি সময়ই শরীর ও মনের বড় পরিবর্তনের সময়। তাই এই সময়গুলোতে বাড়তি যত্ন নেওয়া খুব প্রয়োজন। আপনি বিস্তারিত না জানলে তাকে এই সময় বুঝবেন না। ফলে জেনে রাখা ভালো।
বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তন শুরু হয়, এটুকু আমরা সবাই জানি। এসময় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন বাড়তে থাকে। ফলে শরীর ও মানসিকতায় নানা পরিবর্তন দেখা যায়। কিন্তু কেন এমন হয় এবং সে সময় যত্নটা নিতে হবে কেন সেটা হয়তো মনযোগ দিয়ে ভাবিনি কখনও। এসময় যত্ন প্রয়োজন কারণ—
শারীরিক দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন ঘটে, সেটার সঙ্গে তাকে খাপ খাইয়ে নিতে হয়।
মানসিকভাবে অস্থিরতা, নানা অস্বস্তির কারণে সে ভয় পেতে পারে।
সঠিক পুষ্টি, বিশ্রাম ও মানসিক সহায়তা না পেলে ভবিষ্যতে হরমোনজনিত সমস্যা হতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম, খেলাধুলা, খোলামেলা আলোচনা ও মানসিক সহায়তা পেলে সে সাহস নিয়ে জীবনের শুরুর লড়াইটা জিতে এগিয়ে যেতে পারবে।
এরপর আসে বড় ধরনের পরিবর্তন তার মা হওয়ার কালে। সন্তান জন্মের পর শরীর অনেকটা ক্লান্ত হয়ে যায়, হরমোনের ভারসাম্যও হঠাৎ বদলে যায়। এসময় রক্তক্ষয়, ঘুমহীনতা ও শারীরিক ক্লান্তি বেড়ে যায়। নবজাতকের যত্ন নিতে গিয়েও মা নিজেকে ভুলে যান। স্তন ও জরায়ুর যত্ন দরকার হয়। পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মানসিক সমর্থন না পেলে আগামী দিনগুলোতে চিরস্থায়ী মানসিক অস্থিরতা নিয়ে তাকে বাস করতে হতে পারে।
আর মেনোপজ এর কালে নারীকে একেবারেই খেয়াল না করাটা আমাদের অভ্যাস। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর দিকে আবার বাড়তি খেয়াল কেন রাখতে হবে? কিন্তু এই সময় তার শারীরিক মানসিক যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব তার পাশের মানুষেরই। মেনোপজ হলো ৪৫–৫৫ বছর বয়সে মাসিক বন্ধ হওয়ার সময়। প্রি মেনোপজ ও পোস্ট মেনোপজ এর সময় শরীর তৃতীয় দফায় আবার হরমোন পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়। হুট করে হট ফ্লাশ বা গরম লাগা, প্রচুর ঘাম হওয়া, অস্থির লাগা, ঘুমের সমস্যা, মেজাজ পরিবর্তন, হাড় দুর্বলতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
এই পরিবর্তন সহজে সামলানো যায় না। দৈনন্দিন নানা কাজ ও রুটিনের মধ্যে যখন এ ধরনের পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হয় তখন নিজেকে অসহায় ভাবতে শুরু করে নারীরা। ফলে মানসিকভাবে অবসাদ বা আত্মমর্যাদাবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। আপনি পাশে থাকুন, দেখবেন ঠিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে না তার। এসময় সঠিক খাবার (ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি), হালকা ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তি, নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শ খুব দরকার।