মিয়ানমারের সামরিক সরকার দেশটির কুখ্যাত সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে অভিযান চালিয়ে স্পেসএক্স মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’-এর ৩০টি রিসিভার জব্দ করেছে। সোমবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার এ তথ্য জানিয়েছে।
অভিযানটি চালানো হয় থাই-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কেকে পার্ক এলাকায়। এটি অনলাইন প্রতারণা ও জুয়া সিন্ডিকেটের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযানে ৩০ সেট স্টারলিংক রিসিভার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই এলাকাজুড়ে নতুন ভবন নির্মাণ চলছে এবং ভবনের ছাদে শতাধিক স্টারলিংক ডিশ স্থাপন করা হয়েছে। এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, কেবল একটি ভবনের ছাদেই প্রায় ৮০টি ডিশ দেখা গেছে।
স্টারলিংক মিয়ানমারে আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয়। তবে এশীয় ইন্টারনেট রেজিস্ট্রি এপনিকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ জুলাই থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির শীর্ষ ইন্টারনেট ট্রাফিকের উৎস ছিল স্টারলিংক।
মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অর্থনৈতিক কমিটি স্টারলিংকের এসব স্ক্যাম সেন্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেনারা অভিযানে প্রায় ২০০টি ভবন দখল করে এবং সেখান থেকে ২ হাজার ২০০ কর্মীকে শনাক্ত করে। এছাড়া অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার অভিযোগে ১৫ জন চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দফতর (ইউএনওডিসি) জানায়, ২০২৩ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতারণা চক্রগুলো প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়। এর বড় অংশই পরিচালিত হয় মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে। এসব অঞ্চলে চীনা অপরাধ চক্র ও জান্তা-সমর্থিত মিলিশিয়ারা যৌথভাবে এসব কেন্দ্র চালায়।
চীনের চাপের মুখে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও চীনের যৌথ অভিযানে কয়েক হাজার প্রতারককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তবে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, থাই সীমান্তের মই নদীর পাশ ধরে অন্তত ২৭টি প্রতারণা কেন্দ্রে নতুন ভবন ও ডরমেটরি নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।
চীন জানিয়েছে, এই অভিযানের অংশ হিসেবে তারা এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি চীনা নাগরিককে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।