মিয়ানমারে বৌদ্ধ উৎসবে জান্তার প্যারামোটর হামলা, নিহত অন্তত ২০

মিয়ানমারে বৌদ্ধ উৎসবে জান্তার প্যারামোটর হামলা, নিহত অন্তত ২০

মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে সামরিক জান্তার এক বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের এক উৎসব উপলক্ষে জড়ো হওয়া বেসামরিকদের ওপর প্যারামোটর (মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার) থেকে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে সেনারা। এটিকে দেশটির ক্রমবর্ধমান গৃহযুদ্ধের নতুন রূপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী ৩০ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী বলেন, আমি আকাশে ফ্যানের মতো শব্দ শুনে তাকাই, তারপরই বিস্ফোরণ ঘটে। আমি ছিটকে পড়ি। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার পা নেই, পরে দেখি এখনও তা ঠিক আছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) এবং স্থানীয় সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর বরাতে জানা গেছে, এই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।

চাউং-উ টাউনশিপে স্থানীয় বাসিন্দারা রাত ৮টার দিকে একটি মাঠে উৎসব করছিলেন। ঠিক তখনই জান্তা বাহিনী প্যারামোটর থেকে বোমা বর্ষণ করে বলে জানিয়েছেন চাউং-উ পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের তথ্য কর্মকর্তা কো থান্ট। তিনি বলেন, এই এলাকায় এর আগেও অন্তত ছয়বার জান্তা প্যারামোটর ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।

প্যারামোটর হলো মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার। যা একসঙ্গে তিনজন সেনাকে বহন করতে পারে এবং তারা আকাশ থেকে বোমা ফেলতে বা গুলি চালাতে পারে। সংঘাতবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রথমবার এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে। এরপর থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে এটি নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চে এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও জান্তা বাহিনী প্যারামোটর ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিল। এসিএলইডি -এর সিনিয়র বিশ্লেষক সু মন বলেন, এই ধরনের আকাশযান সাধারণত এমন এলাকায় ব্যবহৃত হয়, যেখানে প্রতিরোধ বাহিনীর অস্ত্রসামগ্রী সীমিত, বিশেষ করে ভারী গুলি বা বিমান-বিধ্বংসী অস্ত্রের অভাব রয়েছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী বার্মা রেভুলিউশন রেঞ্জার্স দাবি করেছে, তারা এপ্রিল মাসে জান্তার একটি প্যারামোটর ভূপাতিত করেছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এসিএলইডি-এর তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মিয়ানমারে অন্তত ১ হাজার ১৩৪টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যা ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। সামরিক বাহিনী এখন উত্তরাঞ্চলের কাচিন পাহাড় থেকে পশ্চিমের রাখাইন উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত ফ্রন্টে বিমানবাহিনীর শক্তির ওপর নির্ভর করছে।

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া সেই প্রতিবাদকারী বলেন, বিস্ফোরণের পর তিনি হামাগুড়ি দিয়ে পাশের একটি নালায় লুকিয়ে ছিলেন। পরে বন্ধুরা এসে তাকে উদ্ধার করে। এটা গণহত্যা।

মিয়ানমারে ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ চলছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, সেনাবাহিনী ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে, যদিও জান্তা সরকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin