রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে টানা অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী, র্যাব-২ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এতে বিদেশি পিস্তল, গুলি, মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ মোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাতভর সেনা-র্যাবের অভিযান
সেনাবাহিনী ও র্যাব-২ এর যৌথ দল বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান চালায়। এ সময় ইতালিতে তৈরি একটি ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড তাজা গুলি ও দেড় কেজি গাঁজাসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো– আব্দুল্লাহ সারমান (৩১), ইমরান হোসেন আলম (২৮), মো. আকাশ (২৫) ও মো. সোহেল (২৮)। এর মধ্যে সোহেলকে স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ‘বুনিয়া সোহেল বাহিনীর ম্যানেজার’ হিসেবে চেনে এলাকাবাসী।
গ্যাং আধিপত্যে সংঘর্ষ, নিহত এক
সাম্প্রতিক সময়ে জেনেভা ক্যাম্পে চুয়া সেলিম, পিচ্চি রাজা ও বুনিয়া সোহেল— এই তিন গ্যাংয়ের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একাধিক সংঘর্ষ হয়। গত ২১ অক্টোবর সেনাবাহিনী পিচ্চি রাজা বাহিনীর আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৩২টি তাজা ককটেলসহ চার জনকে গ্রেফতার করে। এরপর ২৩ অক্টোবর রাতে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের সঙ্গে সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণে বুনিয়া সোহেল গ্রুপের সদস্য জাহিদ (২০) নিহত হন। এই ঘটনার পরই রাতে জেনেভা ক্যাম্পে যৌথবাহিনীর ব্যাপক অভিযান চালায়।
বিদেশি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
র্যাব-২ এর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনী ও র্যাব-২ এর বিশেষ অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি, পাঁচটি সামুরাই তলোয়ার, ১০টি বড় ছোরা, দুটি চাইনিজ কুড়াল, ১৪টি পেট্রোল বোমা, ১০ ক্যান বিয়ার, ৩৩ পিস লোহার এসএস পাইপ এবং ৩০টি হেলমেট।
র্যাব জানায়, এসব অস্ত্র মূলত গ্যাংগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যবহারের জন্য মজুত রাখা হয়েছিল।
থানা পুলিশের পৃথক অভিযানেও গ্রেফতার ২৩
এদিকে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। সেনাবাহিনী ও র্যাব-২ ও পুলিশের অভিযানে জেনেভা ক্যাম্প থেকে মোট ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে আরও চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সবাইকে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়
এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এক কর্মকর্তা বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদক দমন অভিযানে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। সেনা, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
জেনেভা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গ্যাংয়ের প্রভাব বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড ও মাদক কারবার চলমান। সাম্প্রতিক জাহিদ হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় যৌথবাহিনী এলাকাজুড়ে টহল ও অভিযান জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।