রাজধানীর বাড্ডায় মৃত্যুর চার মাস পর কবর থেকে এক নারীর মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে পূর্ব বাড্ডার বরকতপুর কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।
ওই নারীর নাম রুহামা আক্তার রিমু (২৫)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পূর্ব বাড্ডা আলিনগর এলাকার মতিউর সাহেবের বাড়িতে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী আব্দুর রহমান আলম পেশায় সুপারি ব্যবসায়ী।
বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, ‘রিমুর মা নাজমা বেগমের আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আছিফ উদ্দিনের উপস্থিতিতে মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন রুহামা আক্তার রিমু নিজ ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তার স্বামী আব্দুর রহমান। এরপর স্থানীয়ভাবে তাকে দাফন করা হয়। তবে মৃতার মা নাজমা বেগমের অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর পেছনে রহস্যজনক ঘটনা থাকতে পারে। তার দাবি, রিমুকে পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সন্দেহের জেরে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতের আদেশে কবর উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
রিমার স্বামী আব্দুর রহমান আলম বলেন, ‘আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার দিন আমি বাসায় ছিলাম না। পরে খবর পেয়ে এসে দেখি ওর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায়। পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তখনই দাফন করা হয়।’
এদিকে শনিবার মরদেহ উত্তোলনের পর রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় দাফনের কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।