ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুদীপ্ত রায়কে (১৭) অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুক্তিপণ না পেয়েই তারা সুদীপ্তকে হত্যা করে। এরা হলেন, আব্দুল্লাহ (২২) ও জোনায়েদ দেওয়ান (২২)। বুধবার (১২ নভেম্বর) আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার বাগানবাড়ি চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই হাসমত আলী দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জাকির হোসেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, সুদীপ্ত রায় (১৭) ছিল ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জগন্নাথপুর শাখায় একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভাটারার শহীদ আব্দুল আজিজ সড়কে ক্যামব্রিয়ান কলেজের হোস্টেলে থাকতো। গত ৭ নভেম্বর বিকাল পৌনে চারটার দিকে কলেজ হোস্টেল থেকে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয় সুদীপ্ত। ভাটারার শহীদ আব্দুল আজিজ সড়কের প্রবেশ মুখে মূল রাস্তার ওপর পৌঁছামাত্র অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে আটক রাখে। ৭ নভেম্বর রাত পৌনে তিনটার দিকে সুদীপ্তর মোবাইল থেকে তার মায়ের মোবাইলে ফোন করে অজ্ঞাতনামা আসামিরা ৮০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি করা টাকা না দিলে সুদীপ্তকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ওইদিন রাত ৩টার দিকে আবার ফোন দিয়ে জানতে চায় তারা কত টাকা দিতে পারবে। পরে সুদীপ্তর পরিবারের পক্ষ থেকে ৮ নভেম্বর রাতে জানানো হয়— তারা ৫ লাখ টাকা দিতে পারবে। সেই টাকা ময়মনসিংহে দিয়ে আসতে বলে। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় তারা সেদিন টাকা নিয়ে যেতে পারেননি। এরপর টাকা না পেয়ে তারা সুদীপ্তকে হত্যা করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহ আলী থানার দিয়াবাড়ি এলাকার এক বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সুদীপ্ত অপহরণের পরদিন ৮ নভেম্বর বাবা হিমাংশু কুমার রায় ভাটারা থানায় অপহরণের একটি অভিযোগ দায়ের করেন। লাশ উদ্ধারের পর হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়।