নেপালে চালু হচ্ছে সরকারি পরিষেবা

নেপালে চালু হচ্ছে সরকারি পরিষেবা

নেপালে আন্দোলন থেকে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় শত শত সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনগুলো এখন ন্যূনতম সেবা দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে কাস্টমস অফিসের কর্মকর্তারা অনেক জায়গায় অস্থায়ী তাঁবুতে ধার করা ল্যাপটপ ও সাময়িক বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে কোনও রকম সেবাপ্রদান শুরু করেছেন।

আগুনে পুড়ে গেছে কৈলালি জেলার তিনটি প্রশাসনিক ভবন। এর মধ্যেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন কর্মকর্তারা। সেখানকার সহকারী প্রধান জেলা প্রশাসক কিরণ জোশী বলেন, কয়েকটি কম্পিউটার চালু করার জন্য নিকটবর্তী বাসাবাড়ি থেকে বিদ্যুতের তার টেনে আনা হয়েছে। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে কয়েকটি নাগরিকত্ব সনদ বিতরণ করা গেছে। এটা স্বাভাবিক অবস্থা নয়, তবে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।

নেপালে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে পার্লামেন্টের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের গুলিতে ১৯ জন প্রাণ হারায়। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায়। কৈলালি, রুপানদেহি, কাঞ্চনপুর ও চিতওয়ানে জেলা প্রশাসন কার্যালয়, পৌর ভবন, আদালত, এমনকি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ও আক্রমণের শিকার হয়। শুধু চিতওয়ানেই ৭৯টি সরকারি অফিস এবং অন্তত ১৭টি বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রুপানদেহি জেলার ভৈরহাওয়ায় নেপাল-ভারত সীমান্তের ব্যস্ততম কাস্টমস পয়েন্ট বেলাহিয়া। মূল ভবন, নিরাপত্তা চৌকি, ক্যান্টিনসহ কাস্টমস অফিস, রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য ব্যাংকের শাখা ও যাত্রীসেবা কেন্দ্র সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। অফিস প্রধান শিবলাল ন্যুপানে বলেন, অস্থায়ী তাঁবুতে ধার করা ল্যাপটপ দিয়ে কোনও রকম কাজ চালানো হচ্ছে। আপাতত জরুরি পণ্য যেমন গ্যাস, শাকসবজি ও ফল প্রক্রিয়াকরণ চলছে। ভারতীয় পর্যটক গাড়িও প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তবে সার্ভার ধ্বংস হওয়ায় ট্রাক ছাড়তে দেরি হচ্ছে। সীমান্তের দু’পাশে লম্বা লাইনে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে।

নিকটবর্তী আরেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ রাজস্ব কার্যালয়ের ভবনও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অফিসপ্রধান প্রেমরাজ পোখারেল বলেন, সব কম্পিউটার, ফাইল, আসবাব, এমনকি গাড়ি ও কর্মচারীদের সাইকেল পর্যন্ত ধ্বংস হয়েছে। এখন তাঁবুর নিচে তিনটি ল্যাপটপ ও একটি প্রিন্টার দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে।

রুপানদেহির প্রধান জেলা কর্মকর্তা টোকারাজ পাণ্ডে জানান, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সোমবার নাগাদ পাওয়া যাবে। যে অফিসগুলো অক্ষত আছে, সেগুলো স্বাভাবিকভাবে চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত অফিসগুলোতে তাঁবু খাটিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নাগরিকেরা যেদিন এসেছেন, তাদের তথ্য লিপিবদ্ধ করছি যেন পরে প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সেখানকার জেলা আদালত আপাতত কেবল গ্রেফতারি পরোয়ানা ও রিমান্ড শুনানি করছে।

কাঞ্চনপুর জেলাতেও একই অবস্থা। বিদ্যুতের তার পুড়ে যাওয়ায় রবিবার তা প্রতিস্থাপন করে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। প্রধান জেলা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ ঢকাল জানান, নাগরিকত্ব সেবা নির্ভর করছে নতুন কম্পিউটার সিস্টেম চালু করার ওপর।

পুলিশ জানিয়েছে, কাঞ্চনপুরে ৩০টির বেশি সরকারি অফিস, ১৭ জন রাজনৈতিক নেতার বাড়ি ও চারটি বাণিজ্যিক ভবন আক্রমণের শিকার হয়েছে। নেপালি কংগ্রেস ও সিপিএন-ইউএমএল পার্টির কার্যালয় ভস্মীভূত হয়েছে।

চিতওয়ানে কারফিউ প্রত্যাহারের পর বাজার, স্কুল ও যানবাহন চালু হলেও সরকারি কার্যালয়গুলো এখনও ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানকার প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আর্যল বলেছেন, অন্তত সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও সুপারিশপত্র প্রদান শুরু করতে ওয়ার্ড চেয়ারম্যানদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্থানীয় দাতব্য সংস্থাগুলো কম্পিউটার ও আসবাব দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

সব ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, এই পরিস্থিতি অস্থায়ী। রুপানদেহির সিডিও পাণ্ডে বলেন, প্রতিটি নাগরিকের সঙ্গে আমাদের কর্মীরা যোগাযোগ রাখবে। সেবাপ্রদান শিগগিরই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরত যাবে, তবে পুনর্নির্মাণে কিছুটা সময় লাগবে।

তথ্যসূত্র: দ্য কাঠমাণ্ডু পোস্ট

Comments

0 total

Be the first to comment.

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা BanglaTribune | আন্তর্জাতিক

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা

নেপালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউদেল এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কা...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin