নেতাকে আটকের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকাল থেকে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থন করছিলেন।
ডিবি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার একপাশের ফুটপাতে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা দাঁড়িয়ে অবস্থান করছেন। তাদের কয়েকজন জানান, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধ করতে চায় সরকার। কিন্তু বৈধ উপায়ে আনা মোবাইল হ্যান্ডসেটে উচ্চ হারে ট্যাক্স দিতে হবে। এতে কিছু ব্যবসায়ী লাভবান হবেন। সেটা যেন না করতে পারে সে জন্য একটা সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু এর আগেই বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের নেতা ও সুমাসটেক লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবু সাঈদ পিয়াসকে ডিবি কার্যালয়ে তুলে আনা হয়। তাকে ছাড়িয়ে নিতে্ই ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা অবস্থান নিয়েছেন।
মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী মো. মোর্শেদ আলম বলেন, ‘সারা দেশে ২০ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ও কর্মচারী রয়েছেন। সরকার যেই উদ্যোগ নিয়েছে তাতে আমাদের সবার ক্ষতি হবে। সেটা বলার আগেই আমাদের ব্যবসায়ী নেতা পিয়াসকে ডিবি পুলিশ বাসা থেকে তুলে এনেছে। আমরা তাকে ছাড়িয়ে না নেওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাবো না।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছি। এটা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।’
পিয়াসকে ডিবিতে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কিছু বিষয় আছে। যেহেতু ওনারা একটা প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করতে যাচ্ছেন। রাষ্ট্র এটা নিয়ে তো জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। তা্ই জিজ্ঞসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।’
পিয়াসের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন বিভাগের প্রধান মিজানুর রহমান সোহেলকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি। ১০ ঘণ্টা পর আজ সকালে ছেড়ে দেয়। সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেল বাংলাদেশ অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের (ওইএ) সাধারণ সম্পাদক।
বাসায় ফেরার পর মিজানুর রহমান সোহেল বলেন, ‘কী কারণে আমাকে নেওয়া হয়েছে, সুস্পষ্টভাবে তারা (ডিবি) জানায়নি। তবে আজ দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার) বিষয়ক একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। আমি এটার পরামর্শক ছিলাম। সংবাদ সম্মেলনটি বন্ধ করতেই আমাকে নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করছি। তারা আমাকে এই সংবাদ সম্মেলনটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।’
বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও সুমাসটেক লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবু সাঈদ পিয়াস এখনও ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন বলে জানান তিনি।