নেত্রকোনায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ, সত্যতা পেয়েছে আসক

নেত্রকোনায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ, সত্যতা পেয়েছে আসক

নেত্রকোনা জেলার সদর থানায় পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আসামির স্ত্রীকেও ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিলেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) অনুসন্ধানে।

সংস্থাটি বলছে, রিমান্ডে থাকা এক আসামিকে হাত, পা ও চোখ বেঁধে থানার পুলিশ কোয়ার্টারে নিয়ে গিয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো আসকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আসক বলছে, গত ১৪ অক্টোবর সদর উপজেলার বড়গাড়া গ্রাম থেকে আপেল মাহমুদ (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে নেত্রকোনা সদর থানা পুলিশ। পরদিন আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

২০ অক্টোবর রাতে রিমান্ড চলাকালীন আপেল মাহমুদের স্ত্রী আফসানা মিমিকে তার স্বামীর মোবাইল ফোন থেকে কল করে থানায় আসতে বলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ফজলুল করিম। কিছুক্ষণ পর নিজে ফোনে কথা বলার সময় স্বামী আপেল মাহমুদ স্ত্রীর কাছে বলেন, “তুমি না এলে আমাকে মাইরা ফেলবে।” এরপর ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তার চিৎকার শোনা যায়।

আফসানা মিমি আসককে জানান, তিনি ভয়ে তার মা ও ছোট শিশুকে নিয়ে থানায় যান। সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে থানার কোয়ার্টারে ডেকে নিয়ে বলেন, “আপনার স্বামীর অবস্থা দেখে বিচলিত হবেন না।” কোয়ার্টারে ঢুকেই তিনি দেখেন, তার স্বামীকে হাত, পা ও চোখ বেঁধে রডে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “স্বামীকে এভাবে ঝুলিয়ে মারতে দেখে আমি চিৎকার করি। তখন এসআই ফজলুল করিম বলেন, ‘রিমান্ডে আইনা মারবো না তো ঘুম পাড়াবো?”

অর্থ দাবি ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কটূক্তি

আফসানা মিমির অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তা তার কাছে অর্থ দাবি করে বলেন, “এতদিন রাজনীতি করছো, টাকা কামাইছো—এখন ফল ভোগ করো।”

ভুক্তভোগী আপেল মাহমুদ আসককে জানান, তিনজন পুলিশ সদস্য তাকে রডে ঝুলিয়ে দুই ঘণ্টা ধরে পায়ের তলা ও নিতম্বে আঘাত করে। রিমান্ড শেষে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হলেও ব্যথানাশক ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, আপেল মাহমুদ নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার ও আসকের দাবি

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহ নেওয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানিয়েছে আসক। নেত্রকোনা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রেজওয়ান আহমেদ আসককে জানান, অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে এবং এসআই ফজলুল করিমকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আসকের মতে, একজন নাগরিককে হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর সরাসরি লঙ্ঘন। সংস্থাটি বলেছে, “রিমান্ডে থাকা আসামিকে থানার কোয়ার্টারে নিয়ে নির্যাতন, স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

আসক আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা না হলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin