ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের সিকদার হাট এলাকার মাদারগঞ্জ গ্রামে অর্ধগলিত অবস্থায় মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা ঘর থেকে দুর্গন্ধ পাওয়ার পর খবর দেওয়া হয় থানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মৃত দুজন হলেন– ওই গ্রামের জগদীশ চন্দ্র রায়ের দ্বিতীয় স্ত্রী শমিলা রানী (৫০) এবং তার প্রতিবন্ধী মেয়ে শাপলা রানী (২০)।
ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, বাড়িটি জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে থাকায় মানুষের যাতায়াত কম। এক এনজিওকর্মী কিস্তি সংগ্রহ করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পান এবং পুলিশে খবর দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘টিনশেড ঘরের দরজা ও জানালা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দরজা ভাঙার চেষ্টা করলে টিনের দেয়ালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়।
‘ঘরের ভেতরে ঢুকে খাটের পাশে শমিলা রানীর লাশ এবং তার পাশেই মেয়ে শাপলার মরদেহ পাওয়া যায়। দরজার সামনে বিদ্যুতের একটি তার বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ওই তার ব্যবহার করেছিলেন তারা। তবে অসাবধানতাবশত তারেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে।’
পুলিশের ধারণা, দু-তিন দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহগুলো অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।