নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ভারত সবসময় বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে: দুদু

নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ভারত সবসময় বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে: দুদু

নিজেদের স্বার্থরক্ষায় ভারত সবসময় বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ও পার্শ্ববর্তী দেশের এক ভয়ঙ্কর প্রভাবশালী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, যেখানে শেখ স্বৈরাচারী হাসিনা আশ্রয় নিয়েছেন।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ধর্ম, নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের চেয়ে ক্ষমতা বড় না হোক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দুদু বলেন, বাংলাদেশ যে পথে যাওয়ার কথা, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন- সেটি কিন্তু হয়নি। সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এই ফেব্রুয়ারির মধ্যেই যেন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অন্যথায়, দেশে ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশবিরোধী যে ষড়যন্ত্র চারদিকে চলছে, সেখানে পার্শ্ববর্তী দেশের একটি ভয়ঙ্কর শক্তি কাজ করছে; যেখানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আশ্রয় নিয়েছেন।

ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারত কখনোই গণতন্ত্রের বা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না। নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য তারা সবসময় বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে। এদেশের মানুষকে তারা শোষণের ক্ষেত্র হিসেবে দেখে। তারা বিশ্বজুড়ে প্রচার চালাচ্ছে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে- যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনেক হিন্দু নাগরিক নিজেরাই সংবাদ সম্মেলন করে বলছেন, ভারতের এই অভিযোগ সত্য নয়। তাই ভারত সম্পর্কে আমাদের সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

আরও পড়ুনজুলাই সনদকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বিএনপি: রিজভীআমরা তো শাপলা দিতে বাধা দেইনি, ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি কেন?

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, শুধু প্রধান উপদেষ্টার ভারত বিষয়ক মন্তব্যে থেমে থাকলে চলবে না। এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ছাত্র, তরুণ, কৃষক, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণির মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ কথা বলবে, কিন্তু একটি বিষয়ে সবার ঐক্য থাকা জরুরি। তা হলো, জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা। জনগণ তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি; ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, ভোটের নামে তামাশা হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাবেক সংসদ সদস্য দুদু আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নিজের কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই। তারা যতই লাফাক, তাদের আসল শক্তি হচ্ছে কিছু দল যারা নিজেদের স্বার্থে সরকারকে সমর্থন করছে। আমাদের লক্ষ্য সেই গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ ও অক্ষুণ্ন রাখা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মাইনুল ইসলাম তালুকদার (বাদল)। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান (মনির), দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে. এম. রকিবুল ইসলাম রিপন, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মজিবুর রহমান টোটন এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সুলাইমান প্রমুখ।

কেএইচ/এএমএ/জিকেএস

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin