বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বিইজেডএ) কর্তৃক ফিলিপ মোরিস বাংলাদেশ লিমিটেডকে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস (বিটিসিএ)।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানায় সংস্থাটি।
এতে সই করেন সংস্থাটির আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ, সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম তাহিন, আমিনুল ইসলাম সুজন, সুসান্ত সিনহা, সৈয়দা অনন্যা রহমান, ফারহানা জামান লিজা, সামিউল হাসান সজীব ও আবু রায়হান।
‘জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রাণঘাতী সিদ্ধান্ত’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নিকোটিন পাউচ মূলত গামের মতো একটি পণ্য, যা মুখে রেখে ব্যবহার করা হয়। মুখের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে নিকোটিন রক্তে প্রবেশ করে, ফলে এটি দ্রুত নেশা সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলে। যদিও এটি ই-সিগারেট বা ভ্যাপের বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করা হয়, তবুও এতে উচ্চমাত্রার নিকোটিন থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’
বিটিসিএ জানায়, বেলজিয়াম, রাশিয়া, উজবেকিস্তান ও ফ্রান্সসহ অন্তত ৩৪টি দেশ ইতোমধ্যে নিকোটিন পাউচ উৎপাদন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অথচ বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় এই অনুমোদন ‘একটি প্রাণঘাতী সিদ্ধান্ত’।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত পূর্বে নির্দেশ দিয়েছিল— যৌক্তিক সময়ে তামাক ব্যবহার হ্রাস করতে হবে এবং নতুন কোনও তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া যাবে না। বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প, অ-তামাকজাত পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করার নির্দেশনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিইজেডএ’র এই অনুমোদন আদালতের রায়ের পরিপন্থী ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
‘৫১ কোটি টাকার বিনিয়োগে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলা অগ্রহণযোগ্য’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মাত্র ৬৩ জনের কর্মসংস্থান এবং প্রায় ৫১ কোটি টাকার বিনিয়োগের বিনিময়ে জনগণের জীবন, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।’
বিটিসিএ দাবি করেছে, নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের অনুমোদন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে যারা এই অনুমোদন দিয়েছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
সংস্থাটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে নিকোটিন পাউচসহ সকল নিকোটিনজাত পণ্যকে আইনের আওতায় এনে উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তির শেষে বলা হয়, ‘বর্তমান সরকার একটি স্বাস্থ্যবান ও কর্মক্ষম জাতি গঠনের যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, সেই প্রয়াসে জনগণের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কোনও পণ্য উৎপাদন বা অনুমোদন গ্রহণযোগ্য নয়।’