জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারার আলম সম্প্রতি নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। এরপর শুটিংয়েও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এই দাবি করেন স্বর্ণজয়ী দুই শুটার সাবরিনা সুলতানা ও শারমিন আক্তার রত্না।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) জাতীয় স্টেডিয়ামের সামনে নিপীড়নমুক্ত ক্রীড়াঙ্গন এবং নিপীড়কদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেছেন সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠকরা।
মানববন্ধনে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক কামরুন নাহার ডানা বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সর্বক্ষেত্রে নারীরা সাফল্য আনছেন। এরপরও ক্রীড়াঙ্গন নারীদের জন্য নিরাপদ হবে না কেন? যারা নিপীড়ক রয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন কেউ ভবিষ্যতে এ রকম কাজ করার সাহস না পায়। নিপীড়নের শাস্তি না হলে সামনের দিকে নারীরা আর ক্রীড়াঙ্গনে আসবেন না।’
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কিছু সুপারিশও রেখেছেন এই ক্রীড়াবিদ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে নারী দলের সঙ্গে অবশ্যই নারী কাউকে ম্যানেজার করতে হবে। নারীদের দলে ছেলে ম্যানেজার চলবে না। ফেডারেশনগুলোতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নারী রাখতে হবে।’
মানববন্ধনে তারকা শুটার কামরুন নাহার কলি এসে বলে গেলেন বেশ মানসিক পীড়নের মধ্যে রয়েছেন। এজন্য যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘শুটিং স্কোর করে আমি দলে থাকব। এরপরও তিনি আমাকে প্রায়ই মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। সুযোগ পেলেই অকারণে বকাবকি করেন, আবার তার অফিস কক্ষে নিভৃতে যেতে বলেন। আসলে তিনি চান না আমি শুটিং করি।’
কলির স্বামী আবিদুর রহমানও নতুন শুটার। তিনি শুটার হয়েছেনই স্ত্রীর জন্য। নিজে শুটার হয়েও স্ত্রী কলিকে মানসিক পীড়নের জন্য ব্যথিত। তিনি বলেন, ‘যুগ্ম সম্পাদক কলির সঙ্গে বাজে আচরণ করেন। একজন শুটারের সঙ্গে বাজে আচরণ করলে তিনি খেলায় মনোযোগ রাখবেন কীভাবে? তার কক্ষে নারী শুটাররা থাকেন প্রায়ই যা অস্বস্তি ও বিব্রতকর।’
সাবেক জাতীয় তারকা শুটার ও কোচ শারমিন আক্তার রত্না জিএম হায়দার সাজ্জাদকে নিয়ে আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন। আজ প্রতিবাদ সমাবেশে বলেছেন, ‘নারী শুটারদের আপত্তিকর মন্তব্য, কু-প্রস্তাবসহ অনেক কিছুর অভিযোগ রয়েছে তার ওপর। আমরা এজন্য তাকে ফেডারেশনের কমিটিতে না রাখার অনুরোধ করেছিলাম উপদেষ্টাকে। সার্চ কমিটি এ রকম বিতর্কিত কাউকে দেয়নি, অথচ উপদেষ্টার সহকারী সাইফুল তাকে কমিটিতে ঢুকিয়েছেন।’
জাহানারার পরপরই নারী শুটার তাসমায়াতি এমাও যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। সেটাও যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘উনি বলেছিলেন তোমাকে যদি আবার নেই তাহলে রেপ হয়ে যেতে পারো।’ পাশে দাঁড়িয়ে এমার মাও বলেন, ‘আমার মেয়ে যা বলছে, সত্যি এবং আমার সামনেই এমন কথোপকথন হয়েছে।’
প্রতিবাদ সমাবেশে শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক হায়দারের ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুনও ছিল।
এই সমাবেশে সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে। জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত হয়েছিলেন সাবেক ক্রিকেটার ও কোয়াবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল। তিনি বলেন, ‘বিসিবি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সেটার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা চাই। নারীদের জন্য সুন্দর ক্রীড়াঙ্গন গড়তে জেলা-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। নিপীড়কের ক্রীড়াঙ্গনে কোনও ঠাই নেই।’
ক্রিকেট ক্লাব সংগঠক সাব্বির আহমেদ রুবেল বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছিল, এরপরও তৎকালীন বোর্ড সভাপতি কেন সেটি আমলে নিয়ে পদক্ষেপ নেননি। সেটারও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।’