প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ফিলিপ মরিসের নিকোটিন পাউচ তৈরির কারখানা স্থাপনের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি-টোবাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। এটি একইসঙ্গে বর্তমান সরকারের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়াসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেছে সংগঠন দুটি।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সংগঠন দুটির পক্ষে যৌথভাবে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে জানানো হয়েছে, প্রজ্ঞা-আত্মা’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে দেশে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম যন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের অনুমতি প্রদান না করার নির্দেশনা দেয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এর আগে, ১ জানুয়ারি এসআরও জারির মাধ্যমে ই-সিগারেট/ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম সংশ্লিষ্ট সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নিকোটিন পাউচও শরীরে নিকোটিন প্রহণের একটি পদ্ধতি। এটি একটি নতুন ধরনের পণ্য যার মাধ্যমে ধূমপান বা তামাক চিবানো ছাড়াই নিকোটিন গ্রহণ করা যায়। বিভিন্ন সুগন্ধি এবং রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারজাত করা হয় পণ্যটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ফিলিপ মরিসকে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থনৈতিক অঞ্চলে কেবল দেশের অভ্যন্তরে বিক্রির জন্য নিকোটিন পাউচ তৈরির কারখানা স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে এবং অনুমোদনের শর্তাবলিতে উপকরণ আমদানির উল্লেখ রয়েছে, যা সরকারি নির্দেশনাগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তামাক কোম্পানি নিকোটিন পাউচকে “তুলনামূলক কম ক্ষতিকর” বলে দাবি করলেও প্রচলিত ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের মতই এর গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে ডব্লিওএইচও, সিডিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
বর্তমানে নিকোটিন পাউচ ও এধরনের নতুন প্রজন্মের পণ্য শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করছে। বেলজিয়াম, রাশিয়া, উজবেকিস্তান, ফ্রান্সসহ বিশ্বের ৩৪টি দেশ ইতিমধ্যে এই নিকোটিন পাউচ বিক্রয় নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এবিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “নিকোটিন পাউচ কারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশনার লঙ্ঘন। অবিলম্বে এটি কার্যকর করে কারখানা স্থাপনের অনুমোদন বাতিল করতে হবে।”
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীতেও নিকোটিন পাউচসহ ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, ইএনডিএস, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং এধরনের সব পণ্য উৎপাদন, আমদানি, ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রজ্ঞা ও আত্মা আশা করে, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন চূড়ান্ত করবে।