সবশেষ ১৯ বছর আগে রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— বিএনপি। পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংসদে এককভাবে ও অষ্টম সংসদে জোটগতভাবে ক্ষমতায় বসে দলটি। এরপর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ দেড় যুগ। সময় ও রাজনৈতিক আবহ যেমন বদলেছে, দেশ দেখেছে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানও।
সম্প্রতি, অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি সাংগঠনিক জেলায় কাউন্সিল করেছে দলটি। ঢেলে সাজানো হচ্ছে ড্যাব-এ্যাবের মতো বিএনপির প্রধান পেশাজীবী সংগঠনগুলোও। এতে তৃণমূলে চাঙাভাব এলেও অন্তর্বিরোধে ধরাশায়ী দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই দল। এছাড়া দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় ঢিমেতালে চলছে বিএনপির ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। এতে নির্বাচনের আগে বিএনপির অভ্যন্তরে বাড়ছে হতাশা, অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন কেউ কেউ
দশম ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন বয়কট করলেও একাদশ সংসদে ভোটে অংশ নিয়েছিল দলটি। তবে সেই নির্বাচনে বিপুল কারচুপি ও আগের রাতে ভোটের অভিযোগে নির্বাচনের দিনই লড়াই থেকে ইস্তফা দেয় বিএনপি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চালিয়ে যায় রাজপথের আন্দোলন। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন। সাংগঠনিক কাঠামো ও তৃণমূল ভোটারদের সান্নিধ্যে প্রচারণার পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করতেও কাজ করে যাচ্ছে দলটি।
মূলত, ইউনিয়ন ও উপজেলার পর এখন উৎসবমুখর পরিবেশে জেলায় জেলায় হচ্ছে বিএনপির কাউন্সিল। দীর্ঘ দেড় দশকে যেসব জেলায় বিএনপির আন্দোলনের আঁচ পড়েনি, সেখানেও দলীয় আয়োজনে দেখা গেছে লোকে লোকারণ্য অবস্থা। গত কয়েক মাসে বিএনপির ৮২টি সাংগঠনিক জেলার অন্তত ৫০ শতাংশে কাউন্সিল হলেও ঘুরেফিরে পুরাতনরাই রয়েছেন নেতৃত্বে এতে কাউন্সিলের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন বিএনপির অভ্যন্তরে। এদিকে, ভোটের বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফলাফল বাতিল হয় পিরোজপুরে।
সাংগঠনিক তৎপরতার ঢেউ লেগেছে বিএনপিপন্হী পেশাজীবি সংগঠনেও। কাউন্সিলের মাধ্যমে চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের কমিটি হলেও প্রকৌশলীদের সংগঠন এ্যাবের কমিটিতে গুরুত্ব পান দীর্ঘদিনের প্রবাসী ও নিস্ক্রিয় থাকা প্রকৌশলীরা।
হবিগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের সাবেক অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন বিএনপির রাজনীতির কারণে সরকারী চাকরি হারান, অংশ নেন ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে জুলাই অভ্যুত্থানে। তবুও তার জায়গা হয়নি এ্যাবের কমিটিতে।
প্রশ্ন উঠেছে, ভোটের আগে সাংগঠনিক তৎপরতা, বিএনপিকে কী শক্তিশালী করছে নাকি অভ্যন্তরে বিভক্তি বাড়াচ্ছে। এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বলেন, রাষ্ট্রীয় নির্বাচনেও জয়-পরাজয়ের বিষয় থাকে। গণতন্ত্রের স্বার্থেই ফলাফলকে মেনে নিতে হয়। এমন নয় যে, খুব বড় কোনো অপরাধীকে দলীয় পদ বা পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃত্বে আনা হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনের বাকি মাত্র চার মাস, অথচ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর স্থবিরতা কাটানোর উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি বিএনপিতে। মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিক দলের মতো সংগঠনগুলোর কমিটির মেয়াদ পার হয়েছে প্রায় অর্ধযুগ আগে।
তফসিল ঘোষণার আগে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ না হলে, বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বিএনপি— এমন আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
/এমএইচআর