প্রাণায়ামের উৎপত্তি প্রাচীন ভারতীয় যোগশাস্ত্রে। প্রায় ৫ হাজার বছর আগের বেদ ও উপনিষদে প্রাণায়ামের উল্লেখ আছে। প্রাণায়াম শব্দটি এসেছে সংস্কৃত থেকে— ‘প্রাণ’ মানে জীবনশক্তি বা জীবনীশক্তি (যা প্রতিটি শ্বাসে থাকে), ‘আয়াম’ মানে নিয়ন্ত্রণ বা বিস্তার। প্রাণায়াম মানে হচ্ছে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে জীবনশক্তি নিয়ন্ত্রণ। এটা শুধু শ্বাস নেওয়া-ছাড়ার ব্যায়াম নয়— বরং মন, শরীর ও আত্মাকে ভারসাম্যে আনার একটি প্রাচীন যৌগিক প্রক্রিয়া।
খুব ভোরে, খালি পেটে
চাকরিজীবী নগরের মানুষ সকাল সকালই ঘুম থেকে ওঠেন। নিজের অফিস যাওয়া, সন্তানদের স্কুলের প্রস্তুতি; সকালটা দৗড়ের মধ্যেই যায়। ঘুম ভাঙার পরে বিছানাতে বসেই একটু প্রাণায়াম করে নিন, ঝরঝরে লাগবে। খোলা বাতাসে বা জানালার পাশে, শান্ত পরিবেশে ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে ডান নাসিকা বন্ধ করুন, বাম নাসিকা দিয়ে শ্বাস নিন। এবার বাম নাসিকা বন্ধ করে ডান দিক দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। এরপর ডান দিয়ে শ্বাস নিয়ে বাম দিক দিয়ে ছাড়ুন— এইভাবে চলবে। ৫ মিনিট শ্বাস নিন। এটা মন শান্ত করে, রক্তে অক্সিজেন বাড়ায়। এরপর ৫ মিনিট গভীর শ্বাস নিন, তারপর নাক দিয়ে দ্রুত গতিতে শ্বাস ছাড়ুন (পেট ভেতরে টানুন)। ২০–৩০ বার করে একটু পর পর মোট ৩ বার করুন। শেষে ২ মিনিট ধ্যান বা নীরবে বসে থাকুন।
এই রুটিনে সবাই যুক্ত হতে পারেন। যারা মানসিক চাপ, অস্থিরতা বা ঘুমের সমস্যাতে ভোগেন অথবা অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন। যাদের হজমে সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, তারা হালকা প্রণায়ামে উপকার পাবেন।
তবে যাদের হার্টের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা অ্যাজমা আছে, তাদের ক্ষেত্রে যেকোনও ব্যায়ামের বিষয়েই ডাক্তার বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।