নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী বিলে পদ্মফুলের হাসি

নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী বিলে পদ্মফুলের হাসি

ছোট যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে হাঁসাইগাড়ী বিল স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ‘নওগাঁর মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। বিলটি এখন পদ্মবিলে পরিণত হয়েছে। পদ্মের শোভা মুগ্ধ করছে সবাইকে। দল বেঁধে দর্শনার্থীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন পদ্মবিলে। কেউ কেউ তুলে নিচ্ছেন দু-একটা পদ্ম ফুল।

নওগাঁ সদর উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে হাঁসাইগাড়ী ও শিকারপুর ইউনিয়নকে সংযুক্ত করেছে বিস্তৃত এই জলরাশি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় হাঁসাইগাড়ী বিলে প্রায় সারা বছর পানি থাকত। মাছও পাওয়া যেত প্রচুর। বিলজুড়ে ফুটত পদ্ম ও শাপলা ফুল। তবে এখন বছরে পাঁচ থেকে ছয় মাস পুরো বিলে পানি থাকে।

বছরের অন্য সময় বিলের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশই শুকিয়ে যায়। বিলের শুকিয়ে যাওয়া অংশে স্থানীয়রা ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে থাকেন। যেসব অংশে পানি থাকে, সেখানে মাছ চাষ করা হয়। বিলে ফসল আবাদ ও মাছ চাষের কারণে পদ্ম ও শাপলাসহ বিভিন্ন জলজ গাছ বিলীন হয়ে যেতে বসেছে।

সম্প্রতি হাঁসাইগাড়ী বিলে দেখা যায়, এবার বিলের পূর্ব অংশে শিকারপুর ইউনিয়নের খামারবাড়ী মোড় এলাকায় প্রায় ২০০ বিঘাজুড়ে ফুটেছে গোলাপি রঙের পদ্ম ফুল। বিলের পূর্ব অংশ পরিচিতি পেয়েছে পদ্মবিল হিসেবে। পদ্মবিলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা।

বিলের মাঝ দিয়ে চলে গেছে পাকা সড়ক। সড়কের দুই ধারে রয়েছে বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। এগুলো দিয়ে ফুলপ্রেমীদের বিলে ঘুরিয়ে আনা হয়। এক নৌকায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় এক ঘণ্টা ঘুরে বেড়ানো যায়। নৌকায় ৮ থেকে ১০ জন মানুষ উঠতে পারেন। স্থানীয় অনেকেই নৌকা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারছেন।

উপজেলার শিকারপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘পদ্মফুল সারা বছর থাকে না। শুধু বর্ষাকালেই দেখা যায় এ ফুল। আগে বিলজুড়েই পদ্মফুল ফুটত। মাছ চাষে অসুবিধা হয়, এ কারণে পদ্ম, শাপলা, সিঙ্গারসহ পানির নিচে থাকা বিভিন্ন গাছ তুলে ফেলেন মাছচাষিরা। এ জন্য এখন বিলে খুব কম পদ্মফুল ফোটে। এবার বিলের পূর্ব অংশে কিছু পদ্মফুল ফুটেছে। এই ফুল দেখতে প্রতিদিন বহু মানুষ আসছেন।’

পদ্মফুলের সৌন্দর্য ছাড়াও হাঁসাইগাড়ীর বিশাল জলরাশি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। গত শনিবার বিকেলে নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম তাঁর কয়েক বন্ধুকে নিয়ে হাঁসাইগাড়ী বিলে বেড়াতে এসেছিলেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘পদ্মফুল এখন অনেকটা বিরল। বর্ষা মৌসুম ছাড়া এই ফুল ফোটে না। প্রতিবছর এই সময়টায় হাঁসাইগাড়ী বিলে পদ্মফুল ফোটে। বিলে যত দিন ফুল থাকে, তত দিন সপ্তাহে অন্তত একবার বিলে ঘুরতে আসি। বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসি। পদ্মের সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করে।’

নওগাঁ শহর থেকে হাঁসাইগাড়ী বিলের দূরত্ব প্রায় ১০-১১ কিলোমিটার। শহরের গোস্তহাটির মোড় থেকে স্থানীয় যানবাহনে খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। আঁকাবাঁকা ডুবো সড়কের এক পাশে চঞ্চল জল, অন্য পাশে কৃষিভূমি-সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। বিলের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া শিকারপুরের খামারবাড়ী মোড় থেকে হাঁসাইগাড়ীর কাটখৈইর বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক স্থানীয় যোগাযোগ যেমন বদলে দিয়েছে, সেই সঙ্গে খুলেছে পর্যটনের নতুন দুয়ার।

Comments

0 total

Be the first to comment.

গাজীপুরে নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকসহ ৪ জনকে মারধর Prothomalo | জেলা

গাজীপুরে নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকসহ ৪ জনকে মারধর

গাজীপুরের কাশিমপুরে এক নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাভারে কর্মরত বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন...

Sep 24, 2025

More from this User

View all posts by admin