নরসিংদী সদর উপজেলার পশ্চিম ঘোড়াদিয়ায় বসতবাড়িতে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে রীনা বেগম (৩৬) ও তার ছেলে ফরহাদ (১৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে রীনা বেগম এবং দুপুর ১টার দিকে তার ছেলে ফরহাদ মারা যান। রীনার শরীরের ৫৮ শতাংশ ও ফরহাদের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
ডা. শাওন বলেন, হাসপাতালের ভর্তির পর থেকে দুজনেরই অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। একাধিক অস্ত্রোপচার ও স্কিন গ্রাফটিং করা হলেও শরীরের গভীর দগ্ধ অংশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
রীনার আরও এক ছেলে তৌহিদ (৭) বর্তমানে ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শরীরের প্রায় ১৬ শতাংশ পুড়ে গেছে, তবে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
দগ্ধ মা ও ছেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ইনস্টিটিউটের মর্গে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ অক্টোবর ভোররাতে পারিবারিক কলহের জেরে রীনা বেগমের স্বামী ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে মুহূর্তেই পুরো ঘর পুড়ে যায়। এঘটনায় রীনা বেগম, তার তিন সন্তান ও আরও তিনজন আত্মীয় দগ্ধ হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে, সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় পাঁচ জনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা গুরুতর অবস্থায় থাকা রীনা, ফরহাদ ও তৌহিদকে ভর্তি রেখে, বাকি দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেন।