নতুন বাস্তবতার মুখে ট্রাম্প: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল মার্কিন নাগরিকরা

নতুন বাস্তবতার মুখে ট্রাম্প: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল মার্কিন নাগরিকরা

নির্বাচনের আগে অঙ্গীকারের ফুলঝুড়ি ছুটালেও পূর্বসূরি জো বাইডেনের মতই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফাঁদে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সবসময় দেখা গেছে, দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া একবার ছুটতে শুরু করলে তার লাগাম আর সহজে টেনে ধরা যায় না এবং আর সব দেশের মতো মার্কিন জনগণও ব্যয় বৃদ্ধি ভালোভাবে নেয় না।

ট্রাম্পকে সাবেক প্রেসিডেন্টের কিছু ভুলের পুনরাবৃত্তি করতেও দেখা যাচ্ছে, যেমন ঘরোয়া খরচে মূল্যবৃদ্ধির চাপকে উপেক্ষা করা এবং কর্মসংস্থান ও মজুরি বাড়াতে করপোরেট বিনিয়োগকে প্রধান ভরসাস্থল করে সংকট কাটানোর চেষ্টা করা। অথচ এগুলো বেশ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সম্প্রতি একাধিকবার ট্রাম্প বলেছেন, বিপুল বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আছে, যার প্রমাণ হিসেবে তিনি জ্বালানির তুলনামূলক কম দামকে তুলে ধরছেন।

কনজারভেটিভ থিংকট্যাংক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের অর্থনৈতিক নীতি বিভাগের প্রধান মাইকেল স্ট্রেইন বলেছেন, ট্রাম্প ও বাইডেনের ভুলগুলো অদ্ভুতভাবে একইরকম। মার্কিন জনগণ দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সত্যিই খুব সংবেদনশীল, এই বাস্তবতা মানতে তারা নারাজ।

বাইডেন আমলে একসময় নয় শতাংশে পৌঁছে যাওয়া মূল্যস্ফীতি এখন তিন শতাংশে নেমে এলেও, অনেক দ্রব্যের দাম, বিশেষত ট্রাম্পের শুল্কের আওতায় থাকা আমদানি পণ্য, আগের তুলনায় বেশি। অনেকের বেতন বৃদ্ধি হলেও মূল্যবৃদ্ধির চাপে কার্যত তা কাজে লাগছে না। মার্কিনিদের পছন্দের খাবারে খরচ বাড়ছে—গরুর মাংসে প্রায় ১৫ শতাংশ, কলায় ৭ শতাংশ এবং কফিতে ২০ শতাংশের বেশি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়া, সরঞ্জাম ও হার্ডওয়্যারের দাম গত বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী—যেমন পেপার টাওয়েল—সাড়ে পাঁচ শতাংশ বেশি, যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, তার কার্যক্রমে এখন কেবল ৩৮ শতাংশ মার্কিনি সন্তুষ্ট।

মূল্যবৃদ্ধি কারণে ভোক্তা সন্তুষ্টির অন্যান্য সূচকও নেমে গেছে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স নভেম্বরে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে—যারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে কোনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এই সময়ে রেকর্ড নিম্নচাপ দেখা গেছে। রিপাবলিকানদের মধ্যেও অসন্তোষ বেড়েছে।

থ্যাঙ্কসগিভিং ডিনারে ব্যয় বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশন বলছে, চলতি বছর আগের তুলনায় পাঁচ শতাংশ কম খরচ করতে পারে মার্কিনিরা। মিষ্টি আলু, হিমায়িত মটরশুঁটি এবং তাজা সবজিসহ চাহিদার বহু খাদ্যদ্রব্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি ।

অর্থনীতি নিয়ে মার্কিনিদের হতাশাই গত বছর ট্রাম্পকে জয়ের পথে সাহায্য করেছিল। তবে সেই সমর্থনে যে ভাটার টান দেখা যাচ্ছে, তা প্রমাণিত হয়েছে চলতি মাসে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ে।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা এড়াতে ট্রাম্প আগামী মাসগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য সফর করবেন। তার প্রশাসন বলছে, ওভারটাইম, টিপস ও সোশ্যাল সিকিউরিটিতে কর কমানো, নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং ওষুধের দাম হ্রাসের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে মার্কিনিদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। এরই অংশ হিসেবে তিনি লাস ভেগাসে সফর করতে পারেন—যেখানে তিনি টিপসের ওপর কর কমানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিলেন।

হোয়াইট হাউজের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট জানেন তার কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল রয়েছে। প্রথম মেয়াদে তা কাজ করেছিল। এবারও ফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে।

সূত্র: রয়টার্স

Comments

0 total

Be the first to comment.

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা BanglaTribune | আন্তর্জাতিক

নেপালের পার্লামেন্ট ভাঙার প্রশ্নে থমকে আছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আলোচনা

নেপালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পাউদেল এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কা...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin