এশিয়া কাপে সবচেয়ে কাক্ষিত ম্যাচের মঞ্চ প্রস্তুত। যার অপেক্ষায় উপমহাদেশের ক্রিকেট পাগল ভক্তরা। রবিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাত সাড়ে ৮টায় মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচটি দেখাবে টি স্পোর্টস।
এটা শুধু ক্রিকেট ম্যাচ নয়। তার চেয়েও বেশি কিছু। এই লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। আছে রাজনৈতিক উত্তেজনা।
গত মে মাসে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের পর এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে তারা। তাই আজ লড়াইয়ে থাকবে বাড়তি ঝাঁজ। যা মাত্রা ছাড়ানোর আভাসও দিচ্ছে। তার ওপর দুই দল নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে লড়াইয়ে নামছে। বিদায় নিয়েছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি। পাকিস্তান দলে এখন জায়গা হচ্ছে না অভিজ্ঞ বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানেরও।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারত ও এশিয়া কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে অভিজ্ঞতা ও আগ্রাসনের দুর্দান্ত সমন্বয়ে। যাদের রয়েছে জসপ্রীত বুমরার গতি, শুবমান গিলের নিখুঁত পারফরম্যান্স, সূর্যকুমার যাদবের বিস্ফোরক ব্যাটিং, আর কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণি। অন্যদিকে, বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের পর পাকিস্তান ভরসা রাখছে নবীন শক্তিতে—মোহাম্মদ হারিস, সাইম আয়ুব, শাহেবজাদা ফারহান এবং তাদের পেস আক্রমণকে সহায়তা করতে রয়েছে স্পিন ত্রয়ী।
তার পরেও চায়ের কাপে ঝড় তোলার মতো প্রশ্ন উঠছেই। আজ জমজমাট লড়াই হবে নাকি এক পেশে ম্যাচ? পাকিস্তানের নবীন তারকারা কি ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারবে, নাকি আবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে?
ইতিহাস ভারতের পক্ষে
ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বশেষ জয় আসে ২০২২ সালের এশিয়া কাপে। বাবরদের পাঁচ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় এখনও ভক্তদের মনে গেঁথে আছে। কিন্তু সেই সাময়িক সাফল্যের পর থেকে পুরোপুরি ভারতেরই আধিপত্য ছিল। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে ২২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ভারত। প্রথমে ৩৫৬ রান তোলে রোহিত শর্মারা, পরে পাকিস্তানকে গুটিয়ে দেয় মাত্র ১২৮ রানে—ওয়ানডেতে এটাই ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়। একই বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপেও আহমেদাবাদে একপেশে ম্যাচ জেতে ভারত।
গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউইয়র্কের কঠিন উইকেটে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও দুবাইয়ে ভারত আবারও হারায় পাকিস্তানকে।
মাঝেমধ্যে দারুণ ঝলক দেখালেও ধারাবাহিকভাবে ভারতকে সমস্যায় ফেলতে পারেনি পাকিস্তান। একসময় সমান তালে চলা এই দ্বৈরথ এখন স্পষ্টভাবে ভারতের দিকেই হেলে আছে।
দুবাইয়ের আবহাওয়া ও উইকেট
দুবাইয়ে রবিবারও তীব্র গরম থাকবে। তাপমাত্রা পৌঁছাবে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই গরমে খেলোয়াড়দের জন্য কন্ডিশন হয়ে দাঁড়াবে কঠিন।
ঐতিহাসিকভাবে দুবাইয়ের উইকেট হাইস্কোরিং নয়। এই ট্র্যাকে পেসাররা সাধারণত বেশি উইকেট পান, আর রানের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পিনারদের ভূমিকাও থাকে গুরুত্বপূর্ণ।