ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন। ১৫ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে তিনি বিদায় নিলেন। গত সপ্তাহে অ্যাশেজ দলে জায়গা না পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নিলেন ওকস। কাঁধের ইনজুরির কারণে তার ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
৩৬ বছর বয়সী ওকস ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘শৈশব থেকে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। আজ মনে হচ্ছে সময় এসেছে বিদায় বলার। টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য গর্বের।’
ওকসের শেষ ম্যাচ ছিল ওভালে ভারতের বিপক্ষে। ইনজুরিতে হাতে স্লিং নিয়েই ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন। ম্যাচ জেতাতে পারেননি, তবে সতীর্থ ও ভক্তদের মনে দাগ কেটে গেছেন।
তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ৬২ টেস্ট, ১২২ ওয়ানডে ও ৩৩ টি-টোয়েন্টি। মোট উইকেট সংখ্যা ৩৯৬। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে নবম সর্বোচ্চ।
ওকস দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বোলিং আক্রমণে। ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততেও ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০২৩ অ্যাশেজে ছিলেন সিরিজ সেরা। মাঝপথে দলে ফিরে ইংল্যান্ডকে ২-০ ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছিলেন।
ওকসের ওয়ানডে ক্যারিয়ার সবচেয়ে উজ্জ্বল। ১২২ ম্যাচে নিয়েছেন ১৭৩ উইকেট, গড় ৩০.০১। ইংল্যান্ডের হয়ে পঞ্চম সর্বোচ্চ।
২০১০-১১ অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথমবার ইংল্যান্ড দলে ডাক পান। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই তুলে নেন ৬/৪৫, যা তখন ইংল্যান্ডের ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার ছিল। টেস্ট অভিষেক হয় ২০১৩ অ্যাশেজে, ওভালে। ক্যারিয়ারে ধীরে ধীরে সুযোগ পেলেও অ্যান্ডারসন-ব্রড যুগে নিয়মিত হওয়া কঠিন ছিল। তবে নিজের মান প্রমাণ করেছেন বারবার।
২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ টেস্টে নেন ৩৪ উইকেট। ২০১৮ সালে লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে করেন একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরি।
বিবৃতিতে স্ত্রী, দুই কন্যা ও বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ওকস। সমর্থক, কোচ ও সতীর্থদের ধন্যবাদ দিয়েছেন পাশে থাকার জন্য।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ওকস ঘরোয়া ক্রিকেট ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলবেন।
/এমএমএইচ