নিজেদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মহালয়ার মাধ্যমে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা। সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকার মণ্ডপগুলোতে চলছে দেবী বরণের জোর প্রস্তুতি। বিশেষ করে পুরান ঢাকার মণ্ডপগুলোতে দেখা মিলেছে ঐতিহ্যর সঙ্গে আধুনিকতার মিশেলে সংস্কৃতি, সামাজিকতা আর ইতিহাসের মিলনমেলার আয়োজন।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, নবাবপুর, সূত্রাপুর এলাকার মণ্ডপগুলো ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ মণ্ডপেই চলছে সাজ-সজ্জার কাজ। তৈরি করা হচ্ছে সুসজ্জিত তোরণ। এছাড়া উৎসবের মাত্রা বাড়াতে করা হচ্ছে লাইটিং। বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে প্যান্ডেল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ডেকোরেটার কর্মীরা। আর প্রতিমা গড়ার কাজ শেষ করে রং-তুলির কাজ শুরু করার অপেক্ষায় প্রতিমা শিল্পীরা।
সূত্রাপুরের বাসিন্দা মৌমিতা দেবী বলেন, ‘বছর ঘুরে আবারও মর্তে আসছেন দেবী দুর্গা। পুরান ঢাকার দুর্গাপূজা মানেই ঐতিহ্য। এখানকার অধিকাংশ পূজামণ্ডপ শতবর্ষী। এখানে পূজা মানেই শুধু মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি না; এটি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের মিলনমেলা।’
বাংলাবাজারের লক্ষ্মী নারায়ণ জিও ঠাকুর মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন সরকার বলেন, ‘আগামী রবিবার ষষ্ঠী। তার আগেই সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে। তাই ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।’
এই মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন দিলিপ পাল। তিনি বলেন, ‘প্রতিমার আকৃতির কাজ শেষ হয়েছে। এরপর রং-তুলির আচড়ে সাজিয়ে তোলা হবে দেবীকে। ষষ্ঠীর আগেই সবকাজ শেষ হবে আশা করছি।’
এদিকে পূজা মণ্ডপগুলোতে চলছে জোর নিরাপত্তা প্রস্তুতি। মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্বেচ্ছাসেবক টিম রাখা হচ্ছে।
ফরাশগঞ্জ শিব মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার সরকার বলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা নেই। এরপরও আমরা নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দিচ্ছি। সিসিটিভি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ও সেচ্ছাসেবক টিম রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রশাসন ও পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগযোগ রাখছে।’