শীতের হাওয়া বইতে শুরু করলেই ত্বকে টান ধরে, শুষ্কতা বাড়ে, ঠোঁট ফেটে যায়। এই অভিজ্ঞতা প্রায় ঘরে ঘরে জনে জনে দেখা যায়। শীতকাল মানেই ত্বকের জন্য একরকম যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধ মোকাবেলার জন্য বহু যুগ ধরে নির্ভরযোগ্য এক অস্ত্র হলো—অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল।
অলিভ অয়েল শুধু রান্নাঘরের উপাদান নয়, এটি ত্বক, চুল ও নখেরও প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। মিশরীয় রানি ক্লিওপেট্রা থেকে শুরু করে আধুনিক স্কিন কেয়ার বিশেষজ্ঞ—সবাই স্বীকার করেন অলিভ অয়েলের অসাধারণ গুণ।
কেন অলিভ অয়েল বিশেষ
অলিভ অয়েলে রয়েছে ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, বার্ধক্যের ছাপ কমায় এবং কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
ত্বকের শুষ্কতা দূর করে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। নিয়মিত ব্যবহার বলিরেখা কমায়, ত্বক রাখে মসৃণ ও উজ্জ্বল। ঠোঁট ফাটা বা ফাটা গোড়ালিতে লাগালে দ্রুত আরাম মেলে।
কোথায় কীভাবে ব্যবহার করবেন
মুখে
শীতের রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। সকালে গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন।
ঠোঁটে
লিপ বাম হিসেবে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল লাগান। ঠোঁট নরম ও আর্দ্র থাকবে দীর্ঘ সময়।
শরীরে
গরম পানিতে গোসলের পর ভেজা ত্বকে অলিভ অয়েল লাগালে ময়েশ্চার দীর্ঘস্থায়ী হয়।
হাতে ও গোড়ালিতে
শোয়ার আগে একটু অলিভ অয়েল লাগিয়ে মোজা পরে নিন। ফাটা চামড়া দ্রুত নরম হবে।
কোন অলিভ অয়েলটি ভালো
ত্বকের যত্নে সবচেয়ে কার্যকর হলো এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল—যা ঠান্ডা পদ্ধতিতে প্রস্তুত এবং এতে থাকে সবচেয়ে বেশি পুষ্টিগুণ। তেল কেনার সময় বোতলে ‘এক্সট্রা ভার্জিন’ লেখা আছে কি না দেখে নিন।
সতর্কতা
তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন।
প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের একটি অংশে টেস্ট করে নিন।
দীর্ঘসময় রোদে যাওয়ার আগে মুখে বেশি পরিমাণে না লাগানো ভালো।
শেষ কথা
প্রকৃতির এই সোনালী তেলটি শীতে ত্বকের জন্য এক আশীর্বাদ। নিয়মিত যত্নে অলিভ অয়েল কেবল শুষ্কতা দূর করে না, ত্বকে আনে কোমলতা ও দীপ্তি। ব্যয়বহুল ক্রিম বা কেমিক্যাল পণ্যের ভিড়ে এই প্রাকৃতিক উপাদানই হতে পারে আপনার ত্বকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।