অনাস্থা ভোটের প্রথম রাউন্ডে টিকে গেলেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী

অনাস্থা ভোটের প্রথম রাউন্ডে টিকে গেলেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত দুটি অনাস্থা ভোটের প্রথমটিতে টিকে গেছেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিতর্কিত পেনশন সংস্কার স্থগিত করার অঙ্গীকারের কারণে সমাজতান্ত্রিক দলের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় তিনি এই বিজয় অর্জন করেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবাউড কর্তৃক উপস্থাপিত প্রস্তাবটি ২৭১টি ভোট পায়। এটি লেকর্নুর মাত্র এক সপ্তাহ বয়সী সরকারকে পতনের মুখে ফেলার জন্য প্রয়োজনীয় ২৮৯ ভোটের চেয়ে কম।

ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালির প্রস্তাবিত দ্বিতীয় অনাস্থা ভোটটি এক ঘণ্টার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেটিও পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত পেনশন সংস্কার স্থগিত রাখার প্রস্তাব সমাজতান্ত্রিকদের মন জয় করেছে, যা গভীরভাবে বিভক্ত জাতীয় পরিষদে  সরকারের জন্য একটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছে।

তবে এই ভোটটি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর প্রশাসনের ভঙ্গুরতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

পেনশন সংস্কারকে ‘বলি’ দিতে রাজি হয়ে লেকর্নু কার্যত ম্যাক্রোঁর অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক উত্তরাধিকারের মৃত্যু ঘটানোর ঝুঁকি নিচ্ছেন— এমন এক সময় যখন ফ্রান্সের সরকারি আর্থিক অবস্থা বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে আট বছরের শাসন শেষে ম্যাক্রোঁর ঘরে দেশীয় কোনও উল্লেখযোগ্য অর্জন নাও থাকতে পারে।

সংসদে ২৬৫ জন আইনপ্রণেতা লেকর্নুর সরকারকে পতন ঘটাতে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও অন্যান্য কিছু দলের কয়েকজন রাজনীতিবিদও অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। তারা প্রথম ভোটের ফলাফল বদলানোর জন্য যথেষ্ট ছিলেন না।

যদি লেকর্নু যেকোনও এক ভোটে পরাজিত হতেন, তাহলে তাকে এবং তার মন্ত্রিসভাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হতো এবং প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে নতুন সংসদীয় নির্বাচনের জন্য প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়তে হতো— যা ফ্রান্সকে আবারও রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত করত।

তবে যেমনটি আশা করা হচ্ছে, যদি তিনি বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ভোটেও টিকে যান, তবুও ২০২৬ সালের সঙ্কুচিত বাজেট পাসের সময় সংসদে তাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ কঠিন আলোচনার মুখোমুখি হতে হবে। এর মধ্যে যেকোনও সময়ই তিনি ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন।

পেনশন সংস্কারে ছাড় পাওয়ার পর সমাজতান্ত্রিকরা বুধবার তাদের লক্ষ্য স্থির করেছে ২০২৬ সালের বাজেটে বিলিয়নিয়ারদের ওপর কর আরোপের দিকে— যা দেখিয়ে দেয় আলোচনায় লেকর্নুর অবস্থান কতটা দুর্বল।

ফ্রান্স বর্তমানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকটে রয়েছে, যেখানে একের পর এক সংখ্যালঘু সরকার ঘাটতি কমানোর বাজেট পাস করানোর চেষ্টা করছে এমন এক সংসদে, যা তিনটি আদর্শগত শিবিরে গভীরভাবে বিভক্ত।

ফ্রান্সের উদার পেনশন ব্যবস্থায় সংস্কার আনা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ‘ক্রিপ্টোনাইট বা রাজনৈতিক আত্মঘাতী ইস্যু’ হিসেবে বিবেচিত। ১৯৮২ সালে সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ অবসর গ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে কমিয়ে ৬০ বছর করার পর থেকেই এ বিষয়টি রাজনীতিতে অতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

ম্যাক্রোঁর সংস্কার অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে আইনত অবসর গ্রহণের বয়স ২ বছর বাড়িয়ে ৬৪ করা হবে। যদিও এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশগুলোর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবুও এটি বামপন্থিদের প্রিয় একটি সামাজিক সুবিধাকে ক্ষয় করছে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin