বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাসেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে তাকে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক আজিজুল হক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এম এ কাশেমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। এসেব অভিযোগের বিষয়ে জানতে এম এ কাশেমকে এ মাসের শেষ নাগাদ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ক্রয়ে ৩০৪ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগে ২০২২ সালের ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের সদস্য এম এ কাশেমসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করে দুদক। সংস্থাটির উপ-পরিচালক ফরিদ উদ্দিন পাটোয়ারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় এম এ কাশেম ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, সদস্য বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান ও আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন মো. হিলালীকে আসামি করা হয়। দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করা হয় ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল। বোর্ড সদস্যদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ১০টি বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটজনকে আসামি করে এ মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক। এ মামলায় আসামি করা হয় গাড়ি ব্যবহারকারী বেনজীর আহমেদ, এম এ কাশেম, মিসেস রেহেনা রহমান, আজিম উদ্দিন আহমেদ, মো. শাহজাহান, মিসেস ইয়াছমিন কামাল, মিসেস ফওজিয়া নাজ এবং তানভীর হারুনকে। এ দুটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এ বছরের জুন মাসের ২ তারিখে এম এ কাশেসহ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে আরেকটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সদস্যরা হলেন- উপ-পরিচালক আজিজুল হক, সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী মুসা জেবিন ও সহকারী পরিচালক আল-আমিন।
দুদক কর্মকর্তা আজিজুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এম এ কাশেমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছাড়াও সাউথইস্ট ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হবে।