অনলাইনে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৮ কেজি সিসা, হুক্কা সেট, চারকোল, সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মোস্তাক আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোয়েন্দা নজরদারি করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে তারা জানতে পারে, একটি চক্র ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সারা দেশে অবৈধ মাদকদ্রব্য সিসা সরবরাহ করছে। ১৬ নভেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়। এ সময় ১৮ কেজি সিসা, একাধিক হুক্কা সেট, সিসা সেবনে ব্যবহৃত চারকোল, সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন সিসা বারে কঠোর নজরদারি ও অভিযান চালানোর ফলে চক্রগুলো এখন নতুন কৌশলে সিসা সরবরাহ করছে। এই প্রবণতা বন্ধে ডিএনসি বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীতে সক্রিয় একটি অনলাইনভিত্তিক সিসা সরবরাহ চক্র শনাক্ত করে। চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনবক্স ও মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে অর্ডার নিত।
ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে ডিএনসি সদস্যরা প্রথমে চক্রের একজন ডেলিভারিম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হাতিরঝিল এলাকায় পণ্য ডেলিভারি দিতে এলে ডিএনসি দল তাকে আটক করে। এ সময় তার ব্যাগ তল্লাশি করে দুই কেজি সিসা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই ডেলিভারিম্যান জানায়, সে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন অর্ডার অনুযায়ী সিসা সরবরাহের কাজ করে। এবং সে শুধু একাই নয় এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি কাজ করছেন। সে আরও স্বীকার করে যে, এ চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক হলেন মো. আব্দুল আলিম ওয়াসিফ (২৮)।
সামির দেওয়া তথ্য যাচাই করে ডিএনসি দল দ্রুত উত্তর বাড্ডার বিটিআই প্রিমিয়াম প্লাজায় অবস্থিত ‘ইনোভেট’ দোকানটিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে। গোয়েন্দা টিম সেদিন রাতেই দোকানে প্রবেশ করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিশ্চিত হলে দোকানের মালিক মো. আব্দুল আলিম ওয়াসিফকে আটক করে। পরবর্তীতে স্টোর রুম তল্লাশি করে ১৬ কেজি সিসা, তিনটি হুক্কা সেট, দুটি পাইপ, চারকোল ১০ প্যাকেট, আইফোন–১৩ ও পাঁচটি ওয়াইফাই সিসিটিভি ক্যামেরা জব্দ করে।
মোস্তাক আহমেদ জানান, ওয়াসিফ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিসা সরবরাহ করতেন এবং সামি তার হয়ে ডেলিভারি দিত।
গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে; শিগগিরই আরও অভিযান পরিচালিত হবে।