মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে গত বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তামিম ইকবালসহ ১৬ জন। এরপর দুই দিনে নির্বাচন বর্জনের তালিকায় যোগ হয়েছিল আরও চারটি নাম। এবার এই তালিকায় যুক্ত হলেন এসএম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান। ভোটগ্রহণের আগের দিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি।
ঢাকা বিভাগের পরিচালক পদে জামালপুর ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর ফুয়াদের লড়াই ছিল ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীন ফাহিমের সঙ্গে। ফুয়াদ সরে যাওয়ায় আমিনুল ও নাজমূল কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেলেন। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।
বুধবার (৫ অক্টোবর) ফুয়াদ সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা এবং জেলা ক্রিকেট সংস্থা থেকে প্রার্থী ছিলাম। আপনারা জানেন, আমার প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছিল। সেটিও আমি অনেক কষ্ট করে পুনর্বহাল করেছি। বলেছিলাম, একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন চাই, যে নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করতে পারি। কিন্তু আপনারা সবকিছুই দেখছেন, জানছেন। আজকে আমার দেশ পত্রিকায় রিপোর্টটাও পড়তে পারেন। ওখানে হেডলাইন এসেছে, বিসিবির নির্বাচন সুসম্পন্ন। নির্বাচন হওয়ার আগেই নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে।'
এবারের বিসিবি নির্বাচন আগের সরকারের আমলের নির্বাচনকে ছাড়িয়ে গেছে – এমন অভিযোগ তুলে ফুয়াদ বলেন, 'রাতের ভোট তো, ওরা ব্যালট বাক্স ভরেছে, সেটা আলাদা জিনিস। এরা তো সুকৌশলে এমন কাজ করছে, সেটা রাতের ব্যালট বাক্সকেও হার মানিয়ে ফেলেছে।'
অবস্থার পরিবর্তন চেয়ে ফুয়াদ বলেন, ‘ক্রিকেটের স্বার্থে আমার সর্বশেষ কথা, এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। এসব থাকুক, আমরা চাই না। সকলকে নিয়ে এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন হোক। সেখানে যে নির্বাচিত হবে, তাকেই স্যালুট দেব।'
বিসিবি নির্বাচনের ই-ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফুয়াদ বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বহুবার দেখা করতে চেয়েছি, আমার সঙ্গে দেখা করেনি। দরখাস্তও দিতে চেয়েছিলাম যে, ই-ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট শুধু তাদেরই দেবেন, যারা দেশের বাইরে অথবা হাসপাতালে রোগী হিসেবে আছেন। যারা সুস্থ, যারা ঘুরেফিরে খাচ্ছেন, যারা কাউন্সিলর হয়েছেন, যারা হোটেলে বসে আমোদ-ফুর্তি করছেন, তারা কেন ই-ব্যালটে ভোট দেবেন?'
বুলবুলের প্রার্থী হওয়া নিয়ে ফুয়াদ প্রশ্ন রেখে বলেন, 'আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেটের কিংবদন্তি। লিজেন্ড হিসেবে ওনাকে শ্রদ্ধা করি। তবে ওনার উচিত হয়নি এই ঢাকা বিভাগীয় ক্রিকেট সংস্থা থেকে প্রার্থী হওয়া। উনি কোনোদিনই ঢাকা বিভাগের কোনও জেলার সদস্য ছিলেন না। কোনও জেলারই কোনও ক্রিকেট নিয়ে উনি কাজ করেননি। আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি। একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির মেম্বার হয়েছেন এবং কাউন্সিলর হয়েছেন। উনি চিঠি দিয়ে সকল জেলায় অ্যাডহক কমিটির বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করেছেন।’
নাজমূল আবেদিন ফাহিমের বিষয়েও একই অভেোগ তুলে ফুয়াদ বলেন, ‘ওনার অ্যাডহক কমিটির সদস্য হওয়ার ব্যাপারটা দেখেন, ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থায় উনি কবে, কোন সময়, কোন উপজেলায়, কোন সময় সদস্য ছিলেন, কোন খেলা পরিচালনা করছেন? উনিও একই প্রক্রিয়ায় ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য হয়েছেন। অত্যন্ত সুকৌশলে সারাদেশের যোগ্য ক্রীড়া সংগঠক যারা নিজ নিজ জেলার ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকেন, তাদের বিদায় করে কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর বানানো হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ক্রিকেট বোর্ডের আমিনুল আর ফাহিম সাহেবরা ও নির্বাচন কমিশন মিলে বিনি সুঁতোর মালা গেঁথে ফেলেছেন। যে মালা আমার গলায় কস্মিনকালেও পরবে না। সুতরাং আমার আমি আজ আপনাদের মাধ্যমে এই অস্বচ্ছ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।'