পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে মামলার পর অভিযান চালিয়ে জামায়াতের দুজন ও বিএনপির তিন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, বিএনপির মামলায় পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলার আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে জামায়াতের মামলায় স্থানীয় সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে প্রধান আসামি করা হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আবদুর নূর বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। দুই মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি সংঘর্ষের ঘটনার দিন অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া যুবক জামায়াতের কর্মী। তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। তবে এখনও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা-৪ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী জেলা শাখার আমির আবু তালেব মন্ডল। দুজনই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। উপজেলার চরগড়গড়ি গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকালে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল ওই এলাকায় গণসংযোগে যান। তখন দুই পক্ষের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি গুলি ছোড়া হয় এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অনেকে আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঈশ্বরদী থানা সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বাঁধন হাসান বাদী হয়ে জামায়াতের প্রার্থীসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। অন্যদিকে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাসহ ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন।