পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বন্যার কারণে পাঞ্জাব প্রদেশ থেকে ২০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, সিন্ধু প্রদেশ থেকেও দেড় লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য দিয়েছেন দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান ইনাম হায়দার মালিক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
বন্যার ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মালিক বলেন, সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা টনকে টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কম্বল, তাঁবু ও পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ডনকে মালিক বলেছেন, বন্যার পানির স্তর শুকাতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। তারপরই হাজারো গ্রাম ও জমিতে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
আন্তর্জাতিক মেডিকেল কর্পস শুক্রবারের এক হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, জুনের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া মৌসুমি বৃষ্টিতে দেশজুড়ে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
অলাভজনক সহায়তা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কর্পস শুক্রবার জানিয়েছে, জুনের শেষ থেকে মৌসুমি বৃষ্টির কারণে নয় শতাধিক মানুষ মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানে বন্যার তীব্রতা বেড়েছে। অতিবৃষ্টিতে নদীগুলো উপচে পড়ছে। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি রোধে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের ঘাটতির জন্য সরকারকেও দায়ী করেছেন সমালোচকরা।
বন্যায় বিপর্যস্ত বাসিন্দারা মানবেতর অবস্থায় দিনানিপাত করছেন। কারণ, দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। ফলে, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য অনেক পরিবার বাড়িতেই রয়ে যেতে বাধ্য হয় বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গ্রামেগঞ্জে নৌকায় করে গিয়ে মানুষ ও তাদের গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে নিতে সাহায্য করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকর্মীদের ব্যবহৃত ছোট নৌকাগুলো মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এই অভিযান চালিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সিন্ধু নদীতে উদ্ধারকর্মীদের একটি নৌকা উলটে নয়জনের মৃত্যু হয়ে। কয়েক দিন আগে জালালপুর পিরওয়ালা শহরের উপকণ্ঠে একই ধরনের ঘটনায় আরও পাঁচজন প্রাণ হারান।
এবারের বন্যায় পাকিস্তানের প্রতিবেশী ভারতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি এবং সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশের একটি হচ্ছে পাকিস্তান। দেশটি একইসঙ্গে তীব্র গরম ও অতিবৃষ্টির ধাক্কা সামলাচ্ছে। এর ওপর হিমবাহ গলতে শুরু করায় ব্যাপক বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।
২০২২ সালে টানা কয়েক মাসের বৃষ্টিতে পাকিস্তানে এক হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। সে বার তিন কোটির বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।
এ বারের বন্যায় চলতি সপ্তাহে জলবায়ু জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ৩০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।