পাকিস্তানে কোটি টাকার বিয়ে, খতিয়ে দেখছে কর কর্তৃপক্ষ

পাকিস্তানে কোটি টাকার বিয়ে, খতিয়ে দেখছে কর কর্তৃপক্ষ

পাকিস্তানে প্রায় ২৫ কোটি রুপি খরচ করে হওয়া এক বিয়ের আয়োজনকে প্রমাণ হিসেবে নিচ্ছে দেশটির কর কর্তৃপক্ষ। নতুন গঠিত লাইফস্টাইল মনিটরিং সেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘেঁটে বিলাসী জীবনযাপনের প্রমাণ জোগাড় করছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

দেশটির ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউর (এফবিআর) ৪০ সদস্যের তদন্ত দল ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউব ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।  কর্মকর্তারা বলছেন, কর ফাঁকি  দেওয়া তারকা, ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালীরা প্রকাশ্যে বিলাসিতার ছবি পোস্ট করলেও দ্রুত মামলা করা যাবে। এক কর্মকর্তা জানান, তাদের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট আসলে প্রকাশ্য ঘোষণা।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজস্ব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা। এ বছর আইএমএফ সমর্থিত বাজেটে নির্ধারিত কঠোর লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করতেই এই সেল গঠিত হয়েছে। এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের কর-জিডিপি অনুপাত অন্যতম সর্বনিম্ন। আয়ের কর দেয় দেশের ২ শতাংশেরও কম মানুষ।

রয়টার্সের হাতে আসা একটি নথি অনুযায়ী, সেলের কাজ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ করে প্রোফাইল তৈরি করা এবং ব্যয়-আয়ের অসঙ্গতি খুঁজে বের করা। এতে স্ক্রিনশট ও টাইমস্ট্যাম্পসহ কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে প্রমাণ সংরক্ষণ করা হবে।

হীরা, ড্রোন ও ছয় দিনের আয়োজন

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খতিয়ে দেখা বিয়েটির খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৮০ লাখ রুপি (৮ লাখ ৭৮ হাজার ডলার)। শুধু গয়নায় খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ডলার, আর কনের পোশাকে ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার।

ছয় দিনের অনুষ্ঠানে আকাশে উড়েছে ড্রোন, হয়েছে লাইট শো, অতিথিদের জন্য ছিল ফুলের সাজানো টানেল, বহু ধাপের খাবার। শীর্ষ মেকআপ শিল্পী, ডিজে ও কাওয়ালি দলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরামর্শকেরা পুরো আয়োজন সাজান।

এফবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কেবল একটি উদাহরণ। আরও কয়েকটি বিয়ে, বিলাসবহুল গাড়ি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পদ প্রদর্শন এখন তদন্তাধীন। এক কর্মকর্তা বলেন, মানুষ নিজেরাই ইভেন্ট ম্যানেজার, জুয়েলারি দোকান কিংবা ক্যাটারারের নাম ট্যাগ করে দেয়। এতে আমাদের কাজ সহজ হয়।

পুরোনো ব্যর্থতা, নতুন কৌশল

পাকিস্তান অতীতে বহুবার কর ফাঁকিবাজদের ধরতে অভিযান চালিয়েছে। তবে বেশির ভাগ উদ্যোগই ব্যর্থ হয়েছে। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক নজরদারি কর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সূত্র দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ইউনিট গঠনের পরই ইতোমধ্যে একাধিক ফাইল খতিয়ে দেখার জন্য শর্টলিস্ট করা হয়েছে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin