পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত

পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত

যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে তার এই সফর বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দূতাবাস। তিনি রবিবার তিনি ঢাকায় পৌঁছান বলেও জানানো হয়।

ব্রিটিশ দূতাবাস জানায়, সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে ব্যারোনেস উইন্টারটনের বৈঠক করার কথা রয়েছে। ওই সব বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক সংস্কার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। এসব দলের  মধ্যে রয়েছেন— বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির প্রতিনিধিরা। এসব বৈঠকে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশন আরও জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থানকালে বাণিজ্য দূত বিমান চলাচল, উচ্চশিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

চট্টগ্রামে তিনি যুক্তরাজ্য সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন ব্রিটিশ বাণিজ্য দূত। সেখানে বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ এবং উভয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আনছে।

এ সফরে যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের গুরুত্বও তুলে ধরা হবে। এ বাণিজ্য সুবিধা কর্মসূচির আওতায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় দেশের রফতানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

এছাড়া, তিনি ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট, যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ও তাদের স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে সবুজ অর্থায়ন ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা গুরুত্ব পাবে।

ব্রিটিশ হাইকমিশন বল‌ছে, বাণিজ্য দূতের এ সফরের লক্ষ্য বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে সহায়তা করা এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করা।

ব্যারোনেস উইন্টারটন বলেন, ‘‘যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি গতিশীল ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বিদ্যমান। বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়ন যাত্রাকে সহায়তা করার এবং দুই দেশের জন্য উপকারী নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুযোগ অন্বেষণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতেই আমি এখানে এসেছি।’’

তি‌নি বলেন, ‘‘আমি যুক্তরাজ্য-সমর্থিত বিনিয়োগগুলো সরাসরি দেখতে উদগ্রীব, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে, সরবরাহ শৃঙ্খলকে মজবুত করছে এবং উভয় দেশের অর্থনীতিতে বাস্তব মূল্য যোগ করছে।’’

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূতের ছয় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সফরটি যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ বাণিজ্য অংশীদারত্ব দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আমরা পারস্পরিক সমৃদ্ধির জন্য এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী।’’

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin