পাঁচ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি দিলেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল

পাঁচ ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি দিলেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল

হামাসের সঙ্গে নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে পাঁচ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মুক্তি পাওয়া পাঁচজনকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য দেইর আল-বালাহর আল-আকসা হাসপাতালে নেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েল প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

বন্দি মুক্তির খবরে হাসপাতালের বাইরে স্বজনরা জড়ো হন। কেউ মুক্ত বন্দিদের জড়িয়ে ধরেন, আবার কেউ নিখোঁজ পরিবার সদস্যদের খোঁজে উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করেন।

আল জাজিরার রিপোর্টার হিন্দ খুদারি বলেন, যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম ইসরায়েল অজ্ঞাতপরিচয় ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি দিল। 

তবে এখনও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি আছেন। তাদের অনেকেই অভিযোগ ছাড়াই আটক আছেন। একে মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বেচ্ছাচারী আটক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহও ফেরত দিচ্ছে ইসরায়েল। সোমবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) মাধ্যমে ইসরায়েল থেকে আরও ৪৫টি মরদেহ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতির আওতায় ফেরত পাওয়া মরদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭০।

ফরেনসিক দল এখন পর্যন্ত ৭৮টি মরদেহ শনাক্ত করেছে এবং বাকি মরদেহ শনাক্তের কাজ চলছে। শনাক্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ফেরত পাওয়া বহু মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। এর মধ্যে হাত বাঁধা, চোখ বাঁধা, মুখমণ্ডলে বিকৃতি এবং অনেক মরদেহ পরিচয় ট্যাগ ছাড়াই ফেরত দেওয়া হয়েছে।

খুদারি জানান, যদি মরদেহগুলো শনাক্ত না হয়, সেগুলো দেইর আল-বালাহতে গণকবরে দাফন করা হবে। তুরস্ক, মিসর এবং কাতারের মধ্যস্থতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবেই বন্দি ও মরদেহ বিনিময় হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়।

এদিকে যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েল প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্সের এক সূত্র আল জাজিরাকে জানায়, সোমবার রাফাহর উত্তরে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ গাজায় হামলা চালিয়েছে। কারণ ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে ব্যক্তিরা ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করেছিল। একে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।

ইসরায়েলের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এছাড়া গাজা সিটিতে আল-আহলি আরব হাসপাতালের এক সূত্র জানায়, শহরের পূর্ব দিকে ইসরায়েলি হামলায় একটি শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার রিপোর্টার তারেক আবু আজযুম জানান, ইসরায়েল আংশিক ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোতে কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে গ্রেনেড ফেলছে। এখানকার কর্তৃপক্ষ এগুলোকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করছে।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস বলেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ১২৫টিরও বেশি লঙ্ঘন করেছে।  এসব অব্যাহত থাকলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার ঝুঁকি আছে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

যেভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দাফন করছে ইসরায়েল? BanglaTribune | মধ্যপ্রাচ্য

যেভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দাফন করছে ইসরায়েল?

ইসরায়েলি দখলকৃত পশ্চিম তীরে এখন বসবাস করছেন প্রায় ২৭ লাখ ফিলিস্তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এ ভূখণ্ডকে ভবিষ্...

Sep 22, 2025

More from this User

View all posts by admin