পার্বত্য অশান্তি নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। খাগড়াছড়ি জেলায় সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য নয়াদিল্লিকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে জানিয়েছে, নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়ে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে ঢাকা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মন্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য নিয়ে নয়াদিল্লির প্রতিক্রিয়া জানতে চান এক সাংবাদিক। এর জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, আমরা এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ তারা নিয়মিতভাবেই সেই দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে আসছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আত্মসমালোচনা করা উচিত বলেও এ সময় মন্তব্য করেন রণধীর জয়সোয়াল। তিনি বলেন, “ঢাকার এখন অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করে পাহাড়ি অঞ্চলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ এবং জমি দখলে লিপ্ত স্থানীয় চরমপন্থিদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করা উচিত।”
খাগড়াছড়িতে সহিংসতার পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতকে ওই অঞ্চলের অশান্তির জন্য দায়ী করার চেষ্টা করেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, ‘কিছু মহল’ চলমান দুর্গাপূজা উৎসবের সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও তিনি তার অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে প্রাইভেট পড়ে বাড়িতে ফেরার পথে খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রবিবার থেকে পাহাড়ি সম্প্রদায় ও বাঙালি বসতিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ডজনখানেক মানুষ আহত হয়। সহিংসতায় ১৩ সেনা সদস্য এবং তিন পুলিশও আহত হন।
প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু মাঝেমধ্যেই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয়দের আশঙ্কা আবারও সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।