পল্লবীতে যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, দোষ স্বীকার করে এক আসামির জবানবন্দি

পল্লবীতে যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা, দোষ স্বীকার করে এক আসামির জবানবন্দি

রাজধানীর পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ছয়জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে পল্লবী থানায় মামলাটি করেন নিহত কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দিনা।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “ঘটনার সময় জনি নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে চিহ্নিত সন্ত্রাসী পাতা সোহেল, ভাগনে মাসুম, দর্জি মামুন, বোমা কালু ও রোকনের নাম উঠে এসেছে। তারা ছয়জন কিলিং মিশনে অংশ নেন। ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক নাকি মাদক নিয়ে দ্বন্দ্ব তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, আন্ডারওয়ার্ল্ডের কানেকশনের কোনও বিষয় রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে।”

এদিকে, ঘটনায় গ্রেফতার জনি ভুঁইয়া (২৫) আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে সরাসরি গুলির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ হানিফ আসামিকে আদালতে হাজির করেন।

আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা নথিবদ্ধ করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান জনির জবানবন্দি নথিবদ্ধ করেন।

এরপর আসামিকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য দিয়েছে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম।

এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে একটি দোকানে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে।

দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, কিবরিয়া দোকানে ঢোকার দু–তিন সেকেন্ডের মধ্যে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে তাকে গুলি করতে শুরু করে। দুর্বৃত্তদের একজনের পরনে পাঞ্জাবি ও দুজনের গায়ে শার্ট ছিল। প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট ও মুখে মুখোশ ছিল। এ সময় দোকানে ৯ জন ছিলেন। দুর্বৃত্তদের একজন কিবরিয়াকে গুলি করতে শুরু করলে ভয়ে দোকানে থাকা লোকজন বেরিয়ে যান। কিবরিয়াকে দুজন গুলি করে। এ সময় কিবরিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাদের একজন আরও তিনটি গুলি করে দ্রুত বেরিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া খেয়ে অটোরিকশায় উঠে পড়েন দুজন। একজন আটক হলেও অপরজন গুলি করতে করতে পালিয়ে যান। অটোরিকশা দ্রুত না চালানোয় চালককেও গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় চালককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর রক্তাক্ত অবস্থায় কিবরিয়াকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin