পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের করা পৃথক তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিকদের বিরুদ্ধে করা তিন মামলায় রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
রবিবার (২ নভেম্বর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ মো. রবিউল আলম দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার দেখান।
এর আগে গত ৩০ অক্টোবর দুদকের পক্ষ থেকে এই তিন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। আজ তার উপস্থিতিতে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। আজ সকাল ১০টার দিকে তাকে আদালতে এনে হাজতখানায় রাখা হয়। পরে পৌনে ১১টার দিকে মহানগর আদালতের ষষ্ঠ তলায় উঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর বিচারক আসেন। তিন মামলার চার্জশিটের বিষয়গুলো পড়ে শোনান। পরে আদালত তার বক্তব্য জানতে চান।
এসময় খুরশীদ আলম বলেন, ‘মাননীয় আদালত আমি নির্দোষ। আমি আপনার কাছে ন্যায় বিচার চাই।’
খুরশীদের বক্তব্য শেষে বিচারক তিন মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
গত ২৯ অক্টোবর শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে করা তিন মামলায় খুরশীদ আলমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মঈনুল হাসান (লিপন) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ৩১ জুলাই এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এরপর গত ১৩ আগস্ট তিন মামলার ৩ বাদী, ২৮ অগাস্ট তিনজন করে মোট ৯ জন, ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচজন করে ১৫ জন, ২১ সেপ্টেম্বর ৯ জন এবং ৬ অক্টোবর আরও ৯ জন সাক্ষ্য দেন।
শেখ পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।
প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬টি মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়। সবগুলো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।