রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর পোকরোভস্কে প্রতিরক্ষা জোরদার করছে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দার সিরস্কি জানান, সরবরাহ ও উদ্ধারপথ সুরক্ষিত রাখা এবং শহরে প্রবেশ করা রুশ পদাতিক বাহিনীকে নির্মূল করাই এখন মূল লক্ষ্য। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সিরস্কি জানান, তিনি নিজে পোকরোভস্কে গিয়ে সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রায় চার বছর ধরে চলা রুশ আগ্রাসনের মধ্যেও ইউক্রেনীয় বাহিনী শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি রুশ দাবি নাকচ করে বলেন, ইউক্রেনীয় সেনারা কোনোভাবেই শহরে আটকা পড়েনি।
টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় সিরস্কি বলেন, শত্রুপক্ষ সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে শহরের ভেতর আশ্রয় নিচ্ছে ও অবস্থান বদল করছে। তাদের শনাক্ত করে ধ্বংস করাই এখন আমাদের প্রধান কাজ।
রাশিয়া ডনেস্ক অঞ্চলের এই শহরটির দিকে এক বছরের বেশি সময় ধরে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে এবং দক্ষিণের কয়েকটি ছোট গ্রাম দখলে নিয়েছে। গত রবিবার ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানায়, অন্তত ২০০ রুশ সেনা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে পোকরোভস্কে প্রবেশ করেছে, যেখানে ক্ষুদ্র অস্ত্রযুদ্ধ চলছে।
সিরস্কি বলেন, ইউক্রেন শহরটির প্রতিরক্ষা স্থিতিশীলতা বাড়াতে কাজ করছে এবং সরবরাহ ও উদ্ধারপথ সুরক্ষিত রেখে লজিস্টিকস ব্যবস্থায় উন্নতি আনতে চায়। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো সেনাদের জীবন রক্ষা।
অঞ্চলে মোতায়েন ইউক্রেনের ৭ম র্যাপিড রেসপন্স কর্পস জানিয়েছে, রাশিয়ার এফপিভি ড্রোনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছে, তবে তা এখনও কার্যকর রয়েছে।
ইউনিটটি আরও জানায়, রাশিয়া মূলত পদাতিক বাহিনীর মাধ্যমে পোকরোভস্কে আক্রমণ চালাচ্ছে, তবে মিরনোহরাদ শহরের দিকে (প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে) অগ্রসর হতে সাঁজোয়া যানও ব্যবহার করছে।
পোকরোভস্ক দীর্ঘদিন ধরে ডনেস্ক ফ্রন্টে ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। শহরটি হারালে পূর্ব ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহপথ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।