পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর পোকরোভস্কে রুশ বাহিনী অগ্রসর হয়ে ইউক্রেনীয় সেনাদের ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। বুধবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শহরের উত্তরাঞ্চলে তারা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের পথে এবং ইউক্রেনের সেনাদের অবস্থান দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
পোকরোভস্কে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তীব্র যুদ্ধ চলছে। ইউক্রেন স্বীকার করেছে যে শহরটির পরিস্থিতি কঠিন, তবে তারা ঘেরাও অবস্থায় নয় এবং নতুন সেনা ও অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দ্বিতীয় ও একান্নতম সেনাদল শহরের প্রিগোরোদনি ও মধ্য জেলার পূর্বাংশে ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘিরে ধ্বংস করছে। উত্তর দিকেও আক্রমণ অব্যাহত আছে।
তারা আরও জানায়, পোকরোভস্কের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত গ্রামগুলো থেকেও ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ঘেরাও ভাঙার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছিল, শহরের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক এলাকাগুলোতে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। সেখানে বিশেষ বাহিনী ও অতিরিক্ত সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। তবে বুধবার পর্যন্ত ইউক্রেন পক্ষ থেকে নতুন কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, পোকরোভস্কের চারপাশে চাপ বাড়লেও রুশ সেনারা কোনও অগ্রগতি করতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, শহরে থাকা প্রায় ৩০০ রুশ সেনা গত এক দিনে অচল অবস্থায় রয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর জবাবে জানায়, জেলেনস্কি হয় বাস্তবতা জানেন না, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি আড়াল করছেন। তারা দাবি করেছে, পোকরোভস্ক ও কুপিয়ানস্ক—দুই শহরেই ইউক্রেনীয় সেনারা ‘ফাঁদে পড়েছে’ এবং তাদের আত্মসমর্পণ ছাড়া বাঁচার উপায় নেই।
পোকরোভস্ক ও কুপিয়ানস্কে এবার রাশিয়া সরাসরি আক্রমণের বদলে দ্বিমুখী ঘেরাও কৌশল ব্যবহার করছে। ছোট ছোট দ্রুতগতির ইউনিট ও ড্রোন দিয়ে তারা ইউক্রেনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করছে। রুশ সামরিক ব্লগারদের ভাষায়, যুদ্ধক্ষেত্র এখন ‘ধূসর অঞ্চল’ যেখানে কারও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে ইউক্রেনের পক্ষে প্রতিরক্ষা টিকিয়ে রাখা কঠিন।
সর্বশেষ মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, রুশ বাহিনী পোকরোভস্কের সম্পূর্ণ ঘেরাও থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এবং কুপিয়ানস্ক শহরের প্রধান সড়কের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে পোকরোভস্কের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ হাজার। এখন শহরটি প্রায় জনশূন্য। সব শিশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, অল্পসংখ্যক মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রয়ে গেছেন।