পোকরোভস্কে রুশ অগ্রগতি: ইউক্রেনীয় ড্রোনকে ফাঁকি দিতে নতুন কৌশল

পোকরোভস্কে রুশ অগ্রগতি: ইউক্রেনীয় ড্রোনকে ফাঁকি দিতে নতুন কৌশল

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর পোকরোভস্কে নতুন কৌশলে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী। ২১ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের এক চূড়ান্ত পর্যায়ে রাশিয়া এখন শহরটির মধ্যাঞ্চল, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অংশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার ( আইএসডব্লিউ)।

ডনেস্ক অঞ্চলের বাকি দখলবিহীন অংশ দখল করতে পোকরোভস্ক ও পাশের মিরনোহরাদের নিয়ন্ত্রণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে মস্কো। ৩৯ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত আভদিভকা দখলের পর রাশিয়া প্রায় দুই বছর ধরে পোকরোভস্ককেই নিশানা করে আসছে।

ইউক্রেনের কাছে শহরটির প্রতিরক্ষা মূলত সময়ক্ষেপণ করা, যাতে পশ্চিমে অবস্থিত কস্তিয়ান্তিনিভকা, দ্রুশকিভকা, ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্ক শহরগুলোকে শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করা যায়। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই চার শহরের আত্মসমর্পণকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচিত এক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে দাবি করেছিলেন। তবে ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, পুতিন ইউক্রেনের যুদ্ধে জয়লাভে আগের চেয়ে বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw690ca74fbb746" ) );

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমান ও ড্রোনসমর্থিত অভিযানে ইউক্রেনীয় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। তারা ভোভচা নদীর তিনটি সেতুর মধ্যে দুটি ধ্বংস করেছে, যা পোকরোভস্কে রসদ পাঠানোর প্রধান পথ ছিল।

পিাকি ব্লাইন্ডার্স নামে পরিচয় দেওয়া ইউক্রেনীয় একটি ড্রোন ইউনিট টেলিগ্রামে লিখেছে, পোকরোভস্কে পরিস্থিতি খুবই কঠিন। গতিবিধির তীব্রতা এত বেশি যে অপারেটররা আকাশে ড্রোন তোলার সুযোগই পাচ্ছে না।

গত ২৯ অক্টোবর ইউক্রেন জানিয়েছিল, শহরে তখন মাত্র ২০০ রুশ সেনা ছিল। কিন্তু এখন প্রতিদিন প্রায় ৩০০ সেনা প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছে ওই ইউনিট। তিনজনের দলে পাঠানো হয়, যেখানে দুজন ধ্বংস হবে, একজন টিকে যাবে। এমন হিসাবেই রাশিয়া এগোচ্ছে।

রাশিয়া নতুন প্রজন্মের ফাইবার-অপটিক ড্রোন ব্যবহার করছে। এগুলো ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ে অকার্যকর হয় না। ফলে তারা সংখ্যাগতভাবে ড্রোন-সুবিধা অর্জন করেছে। ইউক্রেনীয় সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়াও হালকা ড্রোন ব্যবহারে তাদের অসুবিধা বাড়িয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষক কনস্তান্তিন মাশোভেৎস বলেন, রুশ কমান্ড ইউক্রেনের জনবল ঘাটতি ও ইউনিটের ফাঁকা জায়গার দুর্বলতাকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করেছে।

আইএসডব্লিউ জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন এখন বেশি পরিসরে উড়তে সক্ষম এবং তাপ-বিস্ফোরক ও স্লিপার ড্রোন ব্যবহারে তারা ইউক্রেনীয় সেনাদের চলাচল ও রসদ পরিবহন কঠোরভাবে সীমিত করেছে।

তবু ইউক্রেনীয় সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি শনিবার দাবি করেছেন, শত্রু বাহিনীকে পোকরোভস্ক থেকে নির্মূল ও পিছু হটানোর অভিযান চলছে। কোনও অবরোধ বা ঘেরাও নেই।

jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw690ca74fbb782" ) );

কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে ইউক্রেনের গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানোভকে সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট নিয়ে ওই এলাকায় পাঠানো হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার একটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারে করে কমপক্ষে ১০ জন ইউক্রেনীয় অপারেটর পোকরোভস্কের কাছে অবতরণ করেন। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ওই অভিযানে নামা ১১ জনকেই নিরস্ত করা হয়েছে।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের প্রথম দিকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়। এই সময়ে ১,৪৪৮টি ড্রোন ও ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা ৮৬ শতাংশ ড্রোন ভূপাতিত করলেও অর্ধেকের কম ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে পেরেছে। ফলে ২০৮টি ড্রোন ও ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইউক্রেন রুশ তেল শোধনাগার ও রফতানি টার্মিনালে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কৃষ্ণ সাগরের তুয়াপসে বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি বিদেশি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রুশ ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর নিশ্চিত করেছেন।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মস্কোর পূর্বে নিঝনি নভগোরদ অঞ্চলের লুকঅয়েল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউক্রেন বাশকোর্তোস্তানে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাও লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ প্রধান ভাসিল মালিউক জানান, দেশটির বিশেষ অভিযানে রাশিয়ার একটি ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে।

রাশিয়া ঘোষণা করেছে, ডিসেম্বরের মধ্যে তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র বেলারুশে মোতায়েন করবে। অন্যদিকে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছে।

সিএনএন জানিয়েছে, পেন্টাগন এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে। তিনি পাঠাবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

সূত্র: আল জাজিরা

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin