সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চলমান আন্দোলন থামাতে সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দাবি বাস্তবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা।
তিন দফা দাবিতে সোমবার প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের তৃতীয় দিনের অবস্থান কর্মসূচি চলছে। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ আয়োজিত এই কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন।
এই আন্দোলনে নেতৃতত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম-শাহীন) সভাপতি প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাসেম, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ এবং দশম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয়ক মু. মাহবুবুর রহমান।
শিক্ষকদের এই আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তৃতীয় ধাপে সুপারিশ পাওয়া সহকারী শিক্ষক মো. মহিব বুল্লাহ জানান, তারাও এই আন্দোলনে তৃতীয় দিনেও সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন সংগঠন শিক্ষকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, দশম গ্রেড বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে শনিবার (৮ নভেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। ওইদিন পুলিশি নির্যাতনের পর রবিবার (৯ নভেম্বর) থেকে সারা দেশে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা। একসঙ্গে চলতে থাকে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি এবং সারা দেশে শিক্ষকদের কর্মবিরতি।
রবিবার সন্ধ্যার পর সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণলয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষক নেতারা। বৈঠকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে রাতে কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন তারা। তবে অবস্থান কর্মসূচি চলমান রাখার কথা জানান। কিন্তু আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে শিক্ষক নেতরা কর্মরিতিও অব্যাহত রাখেন।
রাতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ জানান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি এবং কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, সোমবার বিকাল ৫টায় অর্থ মন্ত্রণরয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দাবি আদায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচা করে অবস্থান কর্মসূচি ও শিক্ষকদের কর্মবিরতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা হলো– সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়া; ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়া সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।