প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সংগীত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা এবং নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক এবং বিভিন্ন হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদকরা কর্মসূচিতে সংহতি জানান। সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ানও সংহতি জানিয়েছেন।
সংগীত বিভাগের শিক্ষক আজিজুর রহমান তুহিন বলেন, সভ্যতা বেঁচে আছে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ওপর ভর করে। প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষকের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত আগামীর প্রজন্মের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করবে।
থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্ম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ঈস্রাফিল শাহীন বলেন, হুকুম যখন দিয়েছেন, হুকুমটা বাতিল করেন। শুধু ধর্ম দিয়ে একটি রাষ্ট্রের বিকাশ সম্ভব নয়। সংস্কৃতি কখনোই ধর্মের বিরোধিতা করে না।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস বলেন, সংগীতকে শুধু বিনোদনের বিষয় বিবেচিত করা হয়, কিন্তু এটি অধ্যয়নের বিষয়। আক্ষেপের জায়গা এই যে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যারা আছেন তারা সংগীতের গুরুত্ব কতটুকু জানেন। সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা এ জন্যে প্রয়োজন যে, একটা শিশু যাতে সুস্থ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠে।
ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে সোমবার (৩ নভেম্বর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে তৈরি করা সংগীত শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বাতিল করা হয় শরীরচর্চা শিক্ষকের পদও।
গত ২৮ আগস্ট জারি হওয়া মূল নিয়োগ বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদ দুটি নতুন করে সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু বিধিমালা ঘোষণার পর থেকেই কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন সংগীত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা শুরু করে।