প্রধান উপদেষ্টাকে মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ

প্রধান উপদেষ্টাকে মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ না পাওয়া ব্যক্তিরা। তারা জানান, তাদের চাকরিচ্যুত করার মাধ্যমে পুলিশে যে কলঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল মানবিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেটি যেন দূর হয়। একইসঙ্গে তারা এটাও জানান, এমন কোনও সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবেন না, যাতে তার গায়ে ‘কালি’ লাগে এবং নিয়োগ বঞ্চিতদেরও গায়ে ‘কালি’ লাগে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। নিয়োগবঞ্চিতদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় ছিলেন এসএম সুজন চৌধুরী, শাহেদুল ইসলাম দিপু, আব্দুল মালেক, ওমর ফারুক প্রমুখ।

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তৎকালীন আইজিপি নুর মোহাম্মদ ও বেনজীর আহমেদরা তাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অজুহাতে ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ৫৩৬ জন এসআই এবং ২২১ সার্জেন্টসহ ৭৫৭ জনের চূড়ান্ত নিয়োগ বাতিল করেন। ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক পুলিশের এসআই পদে নিয়োগের জন্য ২০ ডিসেম্বর সব রেঞ্জ ডিআইজির তত্ত্বাবধানে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০০৬ সালের ১৭, ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় ২২ থেকে ৩০ অক্টোবর। আর পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয় ২২ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পুলিশের সার্জেন্ট পদে নিয়োগের জন্য ২ জুলাই রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২৭, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। এরপর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা পুলিশ সদর দফতরে নেওয়া হয় ২০০৬ সালের ২ আগস্ট।

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্বাচিত সব প্রার্থী বিভিন্ন চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজশাহীর সারদা পুলিশ ট্রেনিং একাডেমিতে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বিনা কারণে হঠাৎ যোগদান বাতিল করে দেন তৎকালীন পুলিশ প্রধান। পরে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করেছিলাম। কিন্তু আদালতেও ৭৫৭ জন ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হন। চাকরি হারিয়ে অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদরদফতর এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে এর সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে রয়েছে। আমরা বেশ কয়েকবার দেখা করারও চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। ছয় মাস ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও এর কোনও সুরাহা হয়নি। এমন অবস্থায় মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখে প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেবেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin