সংশয়কিউপিড, দেখো একটি খয়েরি হৃদয় কেমন বেলপাতার মতন গুঁড়িয়ে যাচ্ছে। শুনেছি তোমার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নাকি শূন্যতার পরিপূরক। যা কি-না অতিসূক্ষ্ম এন্টিকাটারকেও প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিতে সক্ষম। অথচ বিপরীত দিকে একটি সোনালি অ্যালোট্রা গলতে গলতে পতিত হচ্ছে ডার্ক হ্রদে। সেসব রহস্য তুমি এড়িয়ে যেতে পারো না, কিউপিড। কতখানি দুঃখ লুকিয়ে রেখেছ ব্লু জ্যাকেটের রুপালি হুডে? বলো, নির্দ্বিধায়। ক্লান্ত হব না; নিথরও না। যেখানে হরিণেরা নাচে মুক্তমনে, আমি তারও অগোচরে নির্দ্বিধায় এক পথচারী! তবে এই মুহূর্ত হতে ফেইক ব্যালেরিনা অর্কিড ভাবতে পারো আমায়। এরপরও যদি পিছু ডাকো; বলো ভালোবাসি! তবে তুমি স্বৈরাচারী!শোপিসউড়ে উড়ে যাও শীতপাখি
মেঘ খসে—অতীত আকাশে
সরু পথ, বিছানো খড়ের
মৌনতায় বিধবা ফসল
যত্নে থেকো দূর্বা ঘাসে, ক্ষেতে
ভোরের কুয়াশা; রাজহাঁসের
শোপিসের মতন তীক্ষ্ণ চোখে
অভিমান কিছুত থাকুক!অসুখে উত্তাপেপুড়ছি জ্বরের উত্তাপে
পুড়ে পুড়ে উড়ছি
চৈত্রমাসে যেমন উড়ে
সবুজ খামের অবয়ব
অচেনা বাতাস; অনভিজ্ঞ হাত
তুলোর মতো কুড়িয়ে কুড়িয়ে
উড়িয়ে দিই; গোপন কৌতূহল
অতঃপর অদৃশ্য বৃষ্টির মতন
বয়ে চলেছি সমুদ্রে...
সন্ধ্যার সমুদ্র যেন আমাদের প্রতীকী!অহংকারপাতার বাসর বুনে, অভিমানী শব্দেরা প্রহর গুণে গুণে ক্লান্ত
জলের স্পর্শ না পেয়ে ভেতরঘরে কেবলই প্রতিশোধ ভাঙা আর গড়ার ব্যঞ্জনা
মধ্যরাতে ওই কালো পাহাড়ের নিদ্রা ভেঙেছে
আর হবে না প্রভাতের প্রতিমা পূজা
কেবলই মিথ্যেরা খিলখিলিয়ে হাসে
নীল খামের ভেতর বর্ণচ্ছটা কাগজে
কতবার যে চেয়েছি পবিত্র ফুরসত
তবুও ভাঙবে না আরতি!কালান্তরের চোখআমি শূন্যতার ছবি আঁকি
বাতাবি লেবুর পাতায়
বারান্দায় বাবার পায়চারি
মায়ের কাঁকন বাজে কানে
তবু শূন্যতা আঁকব
আর একটি একটি করে
জীবনের পাতা ছিঁড়ে
টুকরো টুকরো করব
তবুও শূন্যতা আঁকব
চোখ দুটি বহুকাল আগের বৃক্ষ
শ্যাওলা লতা-পাতায় হাঁপিয়ে উঠেছে
মুক্ত করতে গেলেই বলে—
কাল কালান্তর দাঁড়িয়ে আছি, থাকব
কত আসবে—
যাবে...
আর আমি উপভোগ করব কালান্তর...সত্যতোমার পৃথিবী হলো টকটকে সবুজ
লাল আপেল ভরতি ঝুড়ি
অন্ধচোখে যা আমার নিকট
ধুলোর জাহাজের ন্যায়—নড়বড়ে
নীরস, স্বাদহীন এক অন্ধ শিল্পকলা
নীরস অপ্রিয় গরল!সুরলালচে দুপুর
কড়কড়ে রৌদ্র
এসো, ফুটো করে দিই
হলুদ বেলুন
দুঃখগুলো উড়ে যাক
বাদামি আকাশে
বাতাসে ভাসুক
সুরের আর্তনাদ
ভায়োলিনের!আন্তঃদ্বন্দ্বতুমি ফুলদানি নও;
বেগুনি ড্রোন
মায়াবী হত্যার ফাঁদ
অথবা
আন্তঃদ্বন্দ্ব আজীবন!গেম অব ইভিনিংসকালের চেহারা ধূসর
কাশবনে ধুতরা গাছ
নেমে আসে অন্ধকার...
অবেলায় বেলা হারিয়ে
খেলা শেষে—
তোমার হাতে প্রদীপ জ্বলে...বাবাআমার অষ্টম জন্মদিবসে বলেছিলেন, তোমার কী চাই, বাবা?
উচ্ছল কণ্ঠে বলেছিলাম—আমায় একটি সমুদ্র কিনে দেবে, বাবা?
মৃদু হেসে বললেন, যার ভেতরঘর সমুদ্রের মতন বিশাল
তার কখনো সমুদ্র কিনতে হয় নারে পাগল!
বরং সমুদ্রই খুঁজে ফেরে তার বন্ধন...
যেমন বন্ধন—বৃক্ষ আর শেকড়ের
রক্তের সঙ্গে রক্তের; ফুল ও ডালের!
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68d106b2ceb13" ) ); সাম্মি ইসলাম নীলার জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারি। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে। নিয়মিত লিখছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, মাসিক, সাপ্তাহিক ও অনলাইন সাহিত্য পাতায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইডেন উইমেন্স কলেজ এন্ড ইউনিভার্সিটি হতে সমাজকর্ম বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ‘ধীরে এসো বসন্ত’ তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন ‘পাঞ্জেরী-সাহিত্য একাডেমি পাণ্ডুলিপি পুরস্কার ২০১৯' এবং 'দিগন্তধারা সাহিত্য পুরস্কার -২০২০।