বিভিন্ন দেশের নেতারা জনসমক্ষে ইসরায়েলের সমালোচনা করলেও গোপনে তাঁদের কাছে প্রশংসা করেন বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আজ শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সেশনের প্রথম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বনেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই এ ভাষণ দেন তিনি।
নেতানিয়াহু ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে গেলে প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেন অনেক দেশের প্রতিনিধিরা। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইসরায়েলের মিত্রদেশগুলোও সমালোচনা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশগুলো।
ভাষণে জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর উদ্দেশে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ভেতরে–ভেতরে ঠিকই জানেন, ইসরায়েল আসলে আপনাদের জন্যই লড়াই করছে।’
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘প্রকাশ্যে আমাদের নিন্দা করলেও অনেক নেতাই গোপনে আমাদের ধন্যবাদ দেন। তাঁরা আমাকে এসে ইসরায়েলের গোয়েন্দা পরিষেবা কতটা চমৎকার, সেটা বলেন; যা বারবার তাঁদের রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলা ঠেকিয়েছে, অগণিত জীবন বাঁচিয়েছে।’
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, হামাসের সক্ষমতা কমলেও তারা হুমকি হয়ে আছে। তারা ৭ অক্টোবরের নৃশংসতা পুনরাবৃত্তির ঘোষণা দিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জনগণের দৃঢ়তা, সেনাদের সাহস ও সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য ইসরায়েল অন্ধকারতম দিন থেকে ফিরে এসেছে এবং ইতিহাসের অন্যতম চমকপ্রদ সামরিক প্রত্যাবর্তনের নজির স্থাপন করেছে।’
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তৃতাগুলোর মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের নিন্দা ও যুদ্ধবিরতির দাবি।
ভাষণে লেবাননের সঙ্গে শান্তিচুক্তি সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। যদিও গত নভেম্বরে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, ইসরায়েল বারবার তা লঙ্ঘন করছে। পাশাপাশি সিরিয়ার সঙ্গে চলমান আলোচনারও প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। যদিও সিরিয়ার কর্মকর্তারা ইসরায়েলের নিয়মিত বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছেন।
নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণের শেষ দিকে গাজায় চলমান যুদ্ধ আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে বলে দাবি করেন। এ যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা করলেও নেতানিয়াহু দাবি করেন, বাস্তবে এর উল্টোটা হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই জয় ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তিকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত ও বিস্তৃত করবে। পাঁচ বছর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যা আরব নেতাদের ও আমাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করিয়েছিলেন।’ ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিটি ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ নামে পরিচিত।