লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দারুণ বোলিং প্রদর্শনীতে সিরিজের প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯৩ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান।
২৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৮৩ রানে। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে আলো ছড়ান নোমান আলী ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। দুজনেই নিয়েছেন চারটি করে উইকেট। দুটি নিয়েছেন সাজিদ খান।
গতকাল খেলতে নেমেই শুরুতে চাপে পড়ে প্রোটিয়ারা। দলের স্কোর যখন ১৩ অধিনায়ক এইডেন মারক্রামকে মাত্র ৩ রানে ফিরিয়ে দেন নোমান। অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিয়ান মুল্ডারকেও (০) আউট করে দ্বিতীয় আঘাত হানেন তিনি। কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন রায়ান রিকেলটন ও টনি ডি জর্জি। তারা তৃতীয় উইকেটে গড়েন ৩৩ রানের জুটি।
২ উইকেটে ৫১ রানের স্কোর নিয়ে আজ চতুর্থ দিন খেলতে নেমেছিলেন রিকেলটন ও টনি। কিন্তু প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন শাহীন আফ্রিদি। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ডি জর্জিকে (১৬) ফেরান তিনি। এরপর নোমান আলীর স্পিনে ধস নামে প্রোটিয়াদের। ত্রিস্টান স্টাবসকে ফেরান মাত্র ২ রানে। তখন স্কোর ৪ উইকেটে ৫৫।
এরপর ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও রিকেলটন মিলে ৫০ রানের পার্টনারশিপে কিছুটা আশা জাগান। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া ব্রেভিস এদিন খেলেন ৫৪ বলে ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস। যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক। কিন্তু নোমানের ঘূর্ণিতে আবারও ভাঙে এই জুটি। ব্রেভিসকে আউট করে পাকিস্তানকে ফের এগিয়ে দেন তিনি। তখন ১২৮ রানে স্কোর ৫ উইকেট। এরপর সাজিদ খান রিকেলটনকে সাজঘরে পাঠান। তাতে লাঞ্চের আগেই বিপর্যয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
লাঞ্চের পর সাজিদের ঘূর্ণিতে ফেরেন সেনুরান মুথুসামিও (৬)। এরপর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন কাইল ভেরেইন (১৯) ও সিমোন হার্মার। কিন্তু শাহীন আফ্রিদির তোপে আর টিকতে পারেননি কেউ। শাহীন দ্রুত ফেরান ভেরেইন ও প্রেনেলান সুব্রায়েনকে (৮)। এরপর শেষ ব্যাটারকেও আউট করে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস গুটিয়ে দেন তিনি।
শাহীন আফ্রিদি ৩৩ রানে নেন ৪ উইকেট। নোমান আলীও ৭৯ রানে ৪ উইকেট। প্রথম ইনিংসেও নোমান ৬ উইকেট নেওযায় ম্যাচ সেরা তিনি।