প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত: সিইসি

প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত: সিইসি

নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও জাতিকে একটি সুন্দর, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। কমিশন ‘স্লো অ্যান্ড স্টেডি’ নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় ধাপে তিনি এসব কথা বলেন।

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “কমিশন প্রবাসী, সরকারি কর্মকর্তা ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রবাসীদের ভোটের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ‘হাইব্রিড মডেল’। যেখানে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ও ডাকযোগে (বাই পোস্ট) ভোট প্রদান হবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান

জানিয়ে সিইসি বলেন, “আচরণবিধির খসড়া নিয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং প্রাসঙ্গিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোটারদের ওপর রাজনৈতিক দলের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ, তাই দলগুলো নিজেদের প্রভাব ব্যবহার করে ভোটারদের সচেতন করতে সাহায্য করবে। এতে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত হবে।”

সংলাপে জাকের পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “কালো টাকার ও পেশিশক্তির প্রভাব নির্মূল না হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। তরুণ ভোটারদের ভোট উৎসবমুখর এবং অংশগ্রহণমূলক করতে হবে। ২৫ লাখ টাকার ব্যয়সীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন জরুরি। আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়ে জাকের পার্টি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচন কমিশনকে সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ, নিরপেক্ষ আইন-শৃঙ্খলা, মিডিয়ায় সমান অ্যাক্সেস নিশ্চিত করতে হবে।”

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান একেএম আনোয়ারুল ইসলাম নির্বাচনি আচরণবিধি, প্রচারণা ও ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, “কমিশনকে বিলবোর্ড, ব্যানার, স্টিকার ও পোস্টারের ব্যবহার, প্রিসাইডিং ও পুলিং অফিসারদের নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা, ভোটার কাস্টিং মনিটরিং, অস্ত্র জমা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।” প্রবাসী ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভোটাধিকার এবং গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট কার্যকর বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও দৃঢ়তা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু করতে কমিশনকে স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রার্থী ও দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে উচ্চকক্ষের ভোটে ছোট দলগুলোর প্রতীক বরাদ্দ রাখা জরুরি। এ ছাড়া কালো টাকার ব্যবহার ও চান রাতের কার্যক্রম বন্ধ করার মাধ্যমে নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব।”

তিনি আশা করেন, এবারের নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উদাহরণ স্থাপন করবে।

খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাছির আলী নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, নিরাপদ ভোট প্রক্রিয়া ও প্রিসাইডিং-পুলিং অফিসারদের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই যৌথ বাহিনী মাঠে থাকার প্রয়োজনীয়তা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, প্রবাসী ভোটারদের প্রভাবিতকরণ ও গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের সঠিক বাস্তবায়নের দাবি জানান। এছাড়া ভোটার ও পুলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, এবং নির্বাচন কমিশনের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, “বড় রাজনৈতিক দলের জন্য নির্বাচন করাটা সহজ। ছোট দলগুলো এবং যারা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় তাদের জন্য কঠিন। আমরা যেটা জানতে পেরেছি জামানতের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আমাদের গ্রাম অঞ্চলে অনেক মানুষ ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়। তাদের কথা বিবেচনা করে আপনারা যদি জামানতের অর্থটা বিবেচনা করে সেটাকে পূর্বের মত ২০ হাজার টাকায় নিয়ে যান তাহলে তাদের জন্য উপকার হবে।” গণভোট প্রদান বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান তিনি।

আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফুয়াদ নির্বাচনের বাস্তবসম্মত কাঠামো, ভোটার সচেতনতা ও প্রচারণার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “কমিশনের বিধিমালা প্রার্থী ও দলকে লক্ষ্য করে হলেও ভোটারদের প্রতি যথেষ্ট ফোকাস নেই। প্রচারণার জন্য নিরাপত্তা, অর্থের ব্যবহার, ভ্রাম্যমান প্রচারণা, সরকারি স্থাপনা ও ধর্মীয়/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধতা, সামাজিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কমিশনকে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী কাঠামো ঠিক করতে হবে, যাতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হয়।”

সংলাপের শেষের দিকে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে। তফসিলের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।”

সোশাল মিডিয়ার অপপ্রচার নিয়ে তিনি বলেন, “ভালো তথ্য দিয়ে খারাপ তথ্য মোকাবিলা করতে হবে। মিথ্যা তথ্য শেয়ার করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “আচরণবিধি প্রতিপালনে আমরা কঠোর হবো। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

কমিশনার তাহমিদা আহমেদ বলেন, “অক্ষমতা আমাদের নয়, আপনারা অসহযোগিতা করলে সেটাই অক্ষমতা। সহযোগিতা করলে আলহামদুলিল্লাহ, না করলে ইন্নালিল্লাহ।”

Comments

0 total

Be the first to comment.

নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হলেন হাসানুজ্জামান BanglaTribune | জাতীয়

নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হলেন হাসানুজ্জামান

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস...

Sep 15, 2025

More from this User

View all posts by admin