পর্যবেক্ষকরা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে সবকিছু ড্যামেজ হয়ে যাবে: সিইসি

পর্যবেক্ষকরা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে সবকিছু ড্যামেজ হয়ে যাবে: সিইসি

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসময় পর্যবেক্ষক সংস্থার উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, পর্যবেক্ষকরা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে সবকিছু ড্যামেজ হয়ে যাবে। তাই এরকম কাউকে দয়া করে নিয়োগ দেবেন না।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার সঙ্গে সংলাপের শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।  

এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন খুব রাজনীতি সচেতন। আপনারা যাদের নিয়োগ দেবেন তারা যদি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে তাহলে সবকিছু ড্যামেজ হয়ে যাবে। তাই দয়া করে চেক করবেন তারা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত কিনা, কোনও মিছিল, মিটিং এ গেছে কিনা, কোনও লিংক আছে কিনা। এরকম কাউকে দয়া করে নিয়োগ দেবেন না। আপনাদের লোকজন যাতে কোনও দলীয় প্রচারণা প্রচার প্রসারণে না যায়, ভোটারদের প্রভাবিত না করে, কোন মার্কায় ভোট দাও এসব না করে। তাদের বুঝিয়ে দেবেন এসব করার দায়িত্ব তার না। উনি শুধু রিপোর্ট করবেন।

সিইসি বলেন, আপনারা সবাই বাংলাদেশি, একটা সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। বাংলাদেশের বাস্তবতাও বিবেচনা করে রিপোর্টিং করতে হবে। আমেরিকা, ইউকে বা ইউরোপীয় কনটেক্সট চিন্তা করে রিপোর্ট করলে সমস্যা হবে। আমাদের দেশের লিমিটেশনস, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে স্মার্ট, ইমপ্লিমেন্টেবল রিপোর্টিং করতে হবে। আপনাদের অভিজ্ঞতা আছে, আপনারা সমাজের বিশিষ্ট লোক, সংস্থার নেতৃত্বে আছেন। আপনাদের কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট, এসিআর নির্ভর করবে আপনাদের লোকজনের কর্মকাণ্ডের ওপর। তাই তাদের মনিটরিং আপনাদের করতে হবে।

তিনি বলেন, যদি কোনও রিপোর্ট আসে যে আপনার অবজারভার কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছে, ইনফ্লুয়েন্স করছে, তাহলে তো সমস্যা। তাই নিশ্চিত করবেন তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকে। আমাদের একটাই অ্যাজেন্ডা, একটি ক্রেডিবল, সুন্দর, ট্রান্সপারেন্ট নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া। সেটা সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। কোন ল্যাপস কোন স্টেজে হচ্ছে, আচরণ বিধির স্টেজে, পোলিং স্টেজে, ভোটের লাইনে, বাক্স হ্যান্ডলিং, কাউন্টিং বা ক্যালকুলেশনের স্টেজে এসব আপনারা বুঝিয়ে দেবেন আপনাদের লোকজনকে। 

তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় বলি, আমার সিসি ক্যামেরা হচ্ছে অবজারভার, আমার সাংবাদিক ভাই–বোনেরা। এরা যদি চোখ খোলা রাখে কেউ নিয়ম ভাঙতে সাহস পাবে না। ইনশাল্লাহ আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। আপনাদের সহযোগিতা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই নির্বাচনে আমাদের তো নিজস্ব সুপারভাইজারি মেকানিজম থাকবে। অফিশিয়াল মেকানিজম থাকবে, আমাদের কমিশনের রিটার্নিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আমাদের ইলেক্ট ম্যাজিস্ট্রেসি ইত্যাদি থাকবে। কিন্তু আপনাদের চোখ দিয়েও আমরা নির্বাচনটা দেখতে চাই। আপনাদের চোখ যদি দুষ্ট না হয়, প্রভাবিত না হয়, তাহলে আপনাদের নির্বাচন দেখাটাও সঠিক হবে।

তিনি বলেন, এখানে অনেক পুরানো সংস্থা আছেন যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি অতীত নিয়ে কোনও ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না। আমি অলওয়েজ সামনের দিকে তাকাতে চাই। অতীতের ভুলভ্রান্তি আমাদের অনেক হয়েছে। এটা হতে পারে, নানান কারণে হতে পারে। এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগোতে চাই।

সিইসি বলেন, নির্বাচনে যারা জড়িত থাকবে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত তাদের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে আপনারা রিপোর্ট করবেন। ট্রান্সপারেন্ট ওয়েতে আমাদের কাজকর্মগুলো হচ্ছে কিনা, নির্বাচনি আইন, ইলেকশনটা কনডাক্ট হচ্ছে কিনা, আমাদের যে অফিসার, পুলিশ অফিসার এদের পারফরম্যান্সটা আইন অনুযায়ী হচ্ছে কিনা, শাসনতন্ত্র অনুযায়ী হচ্ছে কিনা, আরপি অনুযায়ী হচ্ছে কিনা। সুতরাং আপনাদের রিপোর্টিংয়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হলেন হাসানুজ্জামান BanglaTribune | জাতীয়

নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক হলেন হাসানুজ্জামান

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস...

Sep 15, 2025

More from this User

View all posts by admin