ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখল পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার তেল আবিবে সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পশ্চিম তীর সংযুক্তির পক্ষে অনুষ্ঠিত ভোট ছিল একটি অর্থহীন রাজনৈতিক নাটক এবং ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছে না। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, যদি এটা রাজনৈতিক নাটকই হয় তবে তা খুবই বোকামিপূর্ণ। আমি ব্যক্তিগতভাবে এতে অপমানিত বোধ করছি। পশ্চিম তীর ইসরায়েলে সংযুক্ত হবে না।
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিই হচ্ছে, পশ্চিম তীর দখল করা যাবে না এবং সেটাই আমাদের নীতি হিসেবে থাকবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, তাকে বলা হয়েছে নেসেটের ভোটটি প্রতীকী ছিল। মানুষ যদি প্রতীকী ভোট দিতে চায়, দিতে পারে, তবে আমরা এতে মোটেও খুশি নই।
এর আগের দিন, বুধবার, নেসেট প্রাথমিকভাবে দুটি বিল অনুমোদন করেন ইসরায়েলি আইনপ্রণেতারা। এর মাধ্যমে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও অবৈধ মালে আদুমিম বসতি ব্লককে সংযুক্ত করার প্রস্তাব পাস হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা করছে এবং সেখানে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনে এই দখল ও সংযুক্তি বেআইনি বলে বিবেচিত।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গত বছর এক মতামতে জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল ও বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এবং তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।
এদিকে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একাধিক দেশও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তথাকথিত ‘ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব’ আরোপের নামে এই উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে, পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের কোনও অংশে ইসরায়েলের কোনও সার্বভৌমত্ব নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বেআইনি দখলদারত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। যা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বিশেষ করে রেজুলেশন ২৩৩৪-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।
পাকিস্তান জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করে।
মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ও ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের বিরোধী।
স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের পরামর্শমূলক মতামতের বিরোধী। ওই মতামতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
স্পেন আরও বলেছে, নেসেটের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনার চেতনাবিরোধী এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের নিউইয়র্ক ঘোষণার নীতির পরিপন্থি।
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউইও এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বৈধতার প্রস্তাবগুলোর স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ন্যায়সঙ্গত ও সর্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে।তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বসতি স্থাপনমূলক কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনি জনগণের ঐতিহাসিক অধিকারের ওপর প্রকাশ্য আঘাত।